রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও আনা হবে নিয়ন্ত্রণে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কোনো পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একইসঙ্গে, দেশের সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বসিলায় 'মন্ত্রীর সাথে চা, ঠিকানা আপনার বাসা' শীর্ষক এক ঘরোয়া আড্ডায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেয়ার করুন:
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও আনা হবে নিয়ন্ত্রণে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য কোনো ধরনের পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন দিকনির্দেশনা নিয়ে এসেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, যদি কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই ধরনের ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করে, তবে তা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত বলে বিবেচিত হবে। এই পদক্ষেপটি প্রাথমিক শিক্ষায় প্রবেশাধিকার সহজ করার পাশাপাশি শিশুদের ওপর থেকে অনাবশ্যক চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান যে, বর্তমানে দেশে পরিচালিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ও নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশের সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর অধীনে আনা হবে। এটি শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যালয়গুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে বেসরকারি খাতের বিদ্যালয়গুলো একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে পরিচালিত হবে, যা দেশের সামগ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হবে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে ঢাকার বসিলা এলাকার একজন নাগরিকের বাসায় 'মন্ত্রীর সাথে চা, ঠিকানা আপনার বাসা' শীর্ষক এক অভিনব উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চা পান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে কেবল সংসদে বক্তব্য দেওয়া বা দাপ্তরিক কার্যালয়ে বসে জনগণের কথা শোনা যথেষ্ট নয়; বরং সরাসরি মানুষের কাছে গিয়ে তাদের জীবনযাপন এবং বাস্তব সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখা ও বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। এই উদ্দেশ্যেই ঢাকা-১৩ আসনের জনগণের জন্য 'মন্ত্রীর সাথে চা, ঠিকানা আপনার বাসা' উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী তার এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, মানুষের সঙ্গে সরাসরি বসে কথা বলার একটি সুযোগ তৈরি করাই এর প্রধান লক্ষ্য। তিনি ঢাকা-১৩ আসনের নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, যদি আপনারা তাকে চায়ের দাওয়াত দেন, তবে তিনি অবশ্যই তাদের বাসায় যাবেন। এই ধরনের ঘরোয়া পরিবেশে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের সুনির্দিষ্ট সমস্যা ও পরামর্শগুলো নির্দ্বিধায় তুলে ধরতে পারবেন, যা বৃহৎ পরিসরের অনুষ্ঠানে অনেক সময় সম্ভব হয় না। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার সমস্যা, নাগরিকদের পরামর্শ ও সম্ভাবনার কথা আরও গভীরভাবে জানা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বসিলা ও মোহাম্মদপুর এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, গত কয়েক মাসে কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানাধীন এলাকাটি ঢাকা শহরের বৃহৎ জনসংখ্যার একটি অঞ্চল হওয়ায়, বসিলা ও রায়েরবাজারের জন্য পৃথক দুটি নতুন থানা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৭ সালের মধ্যে এই দুটি থানার কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে, যার ফলে এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি ও সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং অপরাধ দমনে তা আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, কেরানীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকা থেকে অপরাধীরা এসে ঢাকা-১৩ এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত ফিরে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে বসিলা ব্রিজ এলাকায় একটি শক্তিশালী বিট পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, কিশোর গ্যাং এবং মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জোরদার হবে এবং নাগরিকরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন বলে তিনি জানান।

ঢাকা-১৩ কে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও জনবান্ধব এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, এমন একটি ঢাকা-১৩ দেখতে চান, যেখানে মানুষ বসবাসের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ পাবে। মানুষ যেন মোহাম্মদপুরে যাওয়ার কথা শুনে নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে, সেই পরিবেশ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। এই অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নেও তিনি গুরুত্ব দেন এবং জানান যে, মোহাম্মদপুরে শিগগির একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা এলাকার শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

চায়ের আড্ডায় উপস্থিত পরিবারের সদস্যরা এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, শিল্প ও সৃজনশীল কার্যক্রমে সহযোগিতা করার বিষয়ে তারা আগ্রহ দেখান। প্রতিমন্ত্রী তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এলাকার নাগরিকদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ঢাকা-১৩-এর শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নেবে। তিনি তার স্বপ্ন ব্যক্ত করে বলেন, ঢাকা-১৩ এমন একটি আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তের আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে উঠবে, যেখানে দেশের মানুষ বসবাসের স্বপ্ন দেখবে। এ সময় স্থানীয় নাগরিকরা এলাকার নিরাপত্তা, শিক্ষা, যোগাযোগ, গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ, পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ