রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা

কামরাঙ্গীরচরে বিশেষ মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: এক সবুজ ও সুস্থ ভবিষ্যতের অঙ্গীকার

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কামরাঙ্গীরচরের ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে এক বিশেষ মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, যেখানে পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন:
কামরাঙ্গীরচরে বিশেষ মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: এক সবুজ ও সুস্থ ভবিষ্যতের অঙ্গীকার

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এক বিশেষ মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট, ২০২৬) দুপুর আড়াইটায় কামরাঙ্গীরচর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে ঢাকা-৭ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যা কর্মসূচির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম পরিবেশ রক্ষায় দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি চারা রোপণের মহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রশাসক দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, গাছ কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়, বরং এর সুফল দেশের প্রতিটি নাগরিক এবং সমগ্র সমাজ ভোগ করে থাকে। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি সর্বস্তরের মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করেন।

প্রশাসক তার বক্তব্যে বৃক্ষকে মানবজাতির জন্য 'দ্বিতীয় প্রাণ' হিসেবে অভিহিত করেন, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশ্যক। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, গাছপালা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন সরবরাহ করে। একইসাথে, নগরের ক্রমবর্ধমান যানবাহন ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক দূষিত বায়ু শোষণ করে পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে গাছের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ঢাকার বায়ুদূষণ যে হারে বাড়ছে এবং এর ফলে মানুষের হৃদরোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা থেকে পরিত্রাণ পেতে অধিক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি জোর দেন।

মো. আবদুস সালাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতার জন্য বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, প্রতিটি মানুষ যদি অন্তত একটি করে গাছ লাগায় এবং তার পরিচর্যা করে, তবে এর সুফল পুরো সমাজ দীর্ঘকাল ধরে উপভোগ করতে পারবে। তিনি বিশেষ করে কামরাঙ্গীরচরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, প্রতিটি বিদ্যালয়ে গাছ লাগানো হলে পুরো এলাকা সবুজে ভরে উঠবে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতেও সহায়ক হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু গাছ লাগানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে সেগুলোর পরিচর্যা ও সুরক্ষার দায়িত্বও গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি কামরাঙ্গীরচরের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রশাসক জানান, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়েছে। রাস্তাঘাট মেরামত, মাঠের উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বর্তমানে চলমান রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, একটি এলাকার সব সমস্যা কয়েক মাসের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে প্রতিটি সমস্যার কার্যকর ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা হবে।

মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও প্রশাসক বিশেষ জোর দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, বাড়ি বা আশপাশের এলাকায় তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর সমূহ সম্ভাবনা থাকে, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের কারণ হতে পারে। তাই মশার ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি নাগরিকদের নিজেদের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। এটি মশা নিধনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাইম, ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগ কামরাঙ্গীরচরের পরিবেশ উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ