রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি ও জালিয়াতি ঠেকাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগান্তকারী পদক্ষেপ: বায়োমেট্রিকসহ ১২ নির্দেশনা জারি

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের অপব্যবহার রোধে কঠোর হচ্ছে সরকার। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণসহ মোট ১২ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।

শেয়ার করুন:
নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি ও জালিয়াতি ঠেকাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগান্তকারী পদক্ষেপ: বায়োমেট্রিকসহ ১২ নির্দেশনা জারি

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় সকল প্রকার জালিয়াতি, বিশেষ করে ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের অপব্যবহার ঠেকাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট, ২০২৬) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মন্ত্রণালয় থেকে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালুসহ মোট ১২ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনা দেশের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো সরকারি চাকরিতে যোগ্য প্রার্থীদের অবাধ ও নিরপেক্ষ সুযোগ নিশ্চিত করা।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রমে কিছু অসাধু চক্র অসদুপায় অবলম্বন করে অযোগ্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যে ভুয়া পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে উত্তরপত্র তৈরি এবং ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সাহায্যে তথ্য আদান-প্রদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এমন পরিস্থিতির কারণে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সামগ্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এই গুরুতর সমস্যা মোকাবিলায় এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে।

জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়ার শুরুতেই আবেদনপত্রে আবেদন দাখিলের এক মাসের মধ্যে তোলা সাম্প্রতিক রঙিন ছবি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। লিখিত পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের দাখিলকৃত আবেদনপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে; কোনো পরীক্ষার্থীকে ক্ষুদ্রাকৃতির ব্লুটুথ ডিভাইস, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল হাতঘড়িসহ কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্যাগ বা বই-পুস্তক নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় কেন্দ্রের গেটে মেটাল ডিটেকটর দিয়ে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি করা যেতে পারে এবং পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

পরীক্ষার সময় কেন্দ্রের ভেতরেও কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পরিদর্শকরা মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা এবং রোল নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর কক্ষ পরিদর্শকরা উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করবেন। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এই নিয়মাবলী পরীক্ষার পরিবেশকে আরও সুরক্ষিত ও পক্ষপাতহীন রাখতে সাহায্য করবে।

শুধু লিখিত পরীক্ষাই নয়, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষাতেও জালিয়াতি রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রবেশপত্র এবং লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে পুনরায় সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা নিয়ে তা উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সকল পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সঙ্গে ওই ছবি মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সকল পরীক্ষার্থীর ছবি বাধ্যতামূলকভাবে তুলে রাখতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী চাকরিতে যোগদানের সময় ওই ছবি পরীক্ষা করে যোগদানপত্র গ্রহণ করতে হবে।

জালিয়াতি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পরীক্ষার আগে থেকেই এসব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে সম্ভাব্য জালিয়াতির উৎসগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট বা সামারি ট্রায়াল পরিচালনার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি রাখতে হবে। ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল কোর্ট, সামারি ট্রায়াল অথবা নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায় এবং ভবিষ্যতে কেউ এমন অপকর্ম করার সাহস না পায়।

সর্বোপরি, ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের অধীন দপ্তর, সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা সম্পর্কে অবহিত করতে বলেছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালে প্রয়োজনীয় ভিজিল্যান্স টিমের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকের ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে নির্দেশনার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায় এবং সরকারি চাকরিতে প্রকৃত মেধাবীদের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ