বাংলাদেশের উদীয়মান ডিজিটাল অর্থনীতি এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি চীনের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে, যার মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর উদ্ভাবনী খাতের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা। এই চুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের এআই প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য অপরিহার্য দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক এবং হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মা বেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। হুয়াওয়ে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সহযোগিতা বাংলাদেশের প্রযুক্তি শিক্ষা খাতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অত্যাধুনিক হুয়াওয়ে আইসিটি একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই একাডেমির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স প্রদান করা হবে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যতিক্রমী সুযোগ, কারণ তারা হুয়াওয়ের মতো একটি বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবে। প্রশিক্ষণগুলো মূলত হুয়াওয়ের অনলাইন এআই ট্রেনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যা শিক্ষার্থীদের নিজেদের সুবিধামতো সময়ে ও গতিতে শেখার স্বাধীনতা দেবে।
শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবেন। তারা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান করতে পারবেন, যা প্রশিক্ষণের গুণগত মান নিশ্চিত করবে এবং শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে তুলবে। এই সমন্বিত পদ্ধতি নিশ্চিত করবে যে শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত জ্ঞানই অর্জন করবে না, বরং বাস্তব বিশ্বের সমস্যা সমাধানে তা প্রয়োগ করার দক্ষতাও অর্জন করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আইসিটি সলিউশন ও ইকুইপমেন্ট প্রোভাইডার হিসেবে হুয়াওয়ে আইসিটি ও এআই ক্ষেত্রে বিশ্বমানের সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হুয়াওয়ে আইসিটি একাডেমি চালু হওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। উপাচার্য বিশ্বাস করেন, এই একাডেমির মাধ্যমে তাদের শিক্ষার্থীরা সেরাদের কাছ থেকে এআই বিষয়ে শেখার এক অনন্য সুযোগ পাবে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে।
হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মা বেন তার বক্তব্যে বাংলাদেশের উদ্ভাবনী অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, এই দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির জন্য দক্ষ জনবল অত্যাবশ্যক। মা বেন আরও উল্লেখ করেন যে, শিল্প ও শিক্ষা খাতের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের একটি উজ্জ্বল ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হুয়াওয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই উদ্যোগ সেই প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ।
এই অংশীদারিত্ব শুধু ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের প্রযুক্তি শিক্ষা এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এটি দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও এমন আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করতে উৎসাহিত করবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করবে। এই ধরনের উদ্যোগ দেশের তরুণদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে এবং তাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর কেবল একটি প্রযুক্তিগত ধারণা নয়, বরং এটি আধুনিক বিশ্বের প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি মৌলিক চালিকা শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। তাই এই খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও হুয়াওয়ের এই চুক্তি দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং আগামীর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।