বুধবার, 14 অক্টোবর 2026
⚠ ব্রেকিং
AI 🇧🇩 বাংলা

এআই-চালিত ওয়েব অ্যাপ 'আনসিন বাংলাদেশ': সাব্বিরের উদ্ভাবনী গল্প যা মুগ্ধ করেছে কোটি মানুষকে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেনের তৈরি 'আনসিন বাংলাদেশ' ওয়েব অ্যাপটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এটি ব্যবহারকারীদের বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি, দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে তথ্য প্রদান এবং নিজেদের ভ্রমণকৃত জেলার মানচিত্র তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছে। মাত্র কয়েক দিনেই অ্যাপটি কোটি কোটি ভিজিটরের কাছে পৌঁছে গেছে, যা তার উদ্ভাবনী ধারণার সফলতাকে তুলে ধরে।

শেয়ার করুন:
এআই-চালিত ওয়েব অ্যাপ 'আনসিন বাংলাদেশ': সাব্বিরের উদ্ভাবনী গল্প যা মুগ্ধ করেছে কোটি মানুষকে

বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার অদেখা সৌন্দর্য এবং ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে 'আনসিন বাংলাদেশ' নামের একটি ওয়েব অ্যাপ, যা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ঝড় তুলেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেনের তৈরি এই উদ্ভাবনী প্ল্যাটফর্মটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি করছে ব্যক্তিগত ভ্রমণ মানচিত্র এবং সুসংগঠিত ট্যুর প্ল্যান। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া এই অ্যাপটি সাব্বিরকে এনে দিয়েছে ব্যাপক পরিচিতি এবং প্রশংসা।

এই ওয়েব অ্যাপটির মূল আকর্ষণ হলো এর ইন্টারেক্টিভ মানচিত্র যেখানে ব্যবহারকারীরা এক ক্লিকেই দেখতে পান বাংলাদেশের কোন কোন জেলা তারা ভ্রমণ করেছেন। নিজের নাম সংযুক্ত করে এই ব্যক্তিগত মানচিত্রটি ডাউনলোড করার সুযোগও রয়েছে। এর পাশাপাশি, অ্যাপটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ট্রিপ প্ল্যানার ব্যবহারকারীদের জন্য একটি যুগান্তকারী সংযোজন। চার-পাঁচটি জেলা নির্বাচন করলেই এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজিয়ে দেয়—কোথায় আগে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাবেন এবং সম্ভাব্য খরচ কত হতে পারে, তার বিস্তারিত তথ্য এখানে পাওয়া যায়।

বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ২৪০টিরও বেশি পরিচিত ও স্বল্প পরিচিত দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখানে যুক্ত করা হয়েছে। শুধু বাংলাদেশের মানচিত্রই নয়, বিশ্ব মানচিত্র, কুইজ এবং ইন্টারেক্টিভ গেমের মতো বিনোদনমূলক ফিচারও 'আনসিন বাংলাদেশ'-এর অংশ। কুইজে অংশ নিয়ে ব্যবহারকারীরা তাদের স্কোরসহ ফটোকার্ড তৈরি করে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষাতেই এই ওয়েব অ্যাপটি ব্যবহার করা যায়, যা এর ব্যবহারযোগ্যতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সাব্বির হোসেনের এই উদ্ভাবনী যাত্রার শুরুটা হয়েছিল ব্যক্তিগত প্রয়োজন থেকেই। ভ্রমণপ্রেমী সাব্বির নিজের কৌতূহল মেটাতে প্রথমে এআই ব্যবহার করে বাংলাদেশের একটি মানচিত্র তৈরি করেন, যেখানে তিনি তার ভ্রমণ করা জেলাগুলো চিহ্নিত করতেন। কিন্তু নতুন জেলা ভ্রমণের পর ম্যানুয়ালি মানচিত্র পরিবর্তন করার সীমাবদ্ধতা তাকে একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কথা ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। ছয় বছরের বেশি সময় ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মোবাইল অ্যাপ এবং সফটওয়্যার ডিজাইনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি তার ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেন। শুরুতে এটি ছিল তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একটি প্রকল্প, যা পরে একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েব অ্যাপে রূপান্তরিত হয়।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রথমবার তার তৈরি ম্যাপ ফিচারটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন সাব্বির, তবে তখন তেমন সাড়া মেলেনি। পরবর্তীতে, বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যে তিনি তার ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করেন। কক্সবাজার, রাঙামাটি বা বান্দরবানের মতো পরিচিত গন্তব্যের বাইরে দেশের অনেক ছোট ও কম পরিচিত স্থানকে তুলে ধরার লক্ষ্যে 'কোথায় ঘুরবেন' অপশনটি যুক্ত করেন। এখানে প্রতিটি দর্শনীয় স্থানের ছবি, তথ্য, যাতায়াত ব্যবস্থা, থাকার জায়গা, সম্ভাব্য খরচ এবং পার্কিং বা পাবলিক টয়লেটের মতো প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এরপর গত শনিবার (২ অক্টোবর, ২০২৬) দ্বিতীয়বারের মতো ফেসবুকে পোস্ট করার পর অ্যাপটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ নিজেদের ভ্রমণ মানচিত্র তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করতে শুরু করেন।

সাব্বিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে 'আনসিন বাংলাদেশ' ওয়েব অ্যাপটিতে ২ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ভিজিট হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ লাখ ৮০ হাজার অনন্য ভিজিটর। ওয়েবসাইটের লাইভ তথ্য প্রকাশ করে যে, এখন পর্যন্ত ১৩ লাখ ১৬ হাজার ৮০৩ জন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং ৪৫ হাজার ৫৩৮ জন বিশ্ব মানচিত্র তৈরি করেছেন। এই সংখ্যা প্রতি মুহূর্তে বেড়েই চলেছে, যা এই অ্যাপটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং উপযোগিতাকে প্রমাণ করে।

এই বিশাল প্রকল্পটি সাব্বির একাই তৈরি করেছেন, এর পেছনে কোনো বড় দল নেই। কোড তৈরিতে তিনি এআই টুল 'ক্লড কোড' ব্যবহার করেছেন। অ্যাপটি ভাইরাল হওয়ার পরও সাব্বির ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রচারে খুব একটা আগ্রহী নন। বর্তমানে ভ্রমণভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'গো-জায়ান'-এর সাথে একটি ব্র্যান্ড কোলাবোরেশন হয়েছে, যেখানে ট্রিপ প্ল্যানের সাথে প্রতিষ্ঠানটির সেবার সংযোগ রাখা হয়েছে। সাব্বির জানান, এই ওয়েব অ্যাপটি তার আয়ের প্রধান উৎস নয়, বরং এটি তার প্যাশন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার ফসল যা দেশের পর্যটনকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ