বুধবার, 14 অক্টোবর 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত: প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের নির্দেশিকা

রাজধানীর যানজট নিরসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই বৈঠকে ঢাকা শহরের পরিবহন সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন:
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত: প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের নির্দেশিকা

রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনার সার্বিক উন্নয়ন ও যানজট নিরসনে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ সকালে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যতে একটি সুসংগঠিত, আধুনিক ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দেশের অন্যতম প্রধান এই সমস্যা সমাধানে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে মূলত ঢাকা শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট যানজট, গণপরিবহনে শৃঙ্খলাহীনতা এবং যাত্রী ভোগান্তির মতো বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, একটি আধুনিক ও জনবান্ধব শহরের জন্য উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা অপরিহার্য। তিনি জোর দেন যে, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, বরং পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রগণ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের একটি প্রতিনিধি দল তাদের মূল্যবান মতামত ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন। এই বহুমাত্রিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার গভীরে প্রবেশ করে একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়।

আলোচনায় গণপরিবহনের রুট রেশনালাইজেশন, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ও মেট্রো রেল প্রকল্পের সঙ্গে অন্যান্য গণপরিবহনের সুষ্ঠু সমন্বয় সাধন, ডিজিটাল টিকেটিং ব্যবস্থার প্রবর্তন, ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতা এবং চালক ও সহকারীদের প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। বিশেষ করে, ঢাকা শহরের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের সংখ্যা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এসব বিষয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উপরও জোর দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তার নির্দেশনায় বলেন, ট্রাফিক আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে, পথচারীদের জন্য নিরাপদ ফুটপাত নিশ্চিত করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পরিবহন সেক্টরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

বৈঠকে ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন নতুন ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের চলমান প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি, গণপরিবহনে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করা এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রচলন বাড়াতে নীতিগত সহায়তা প্রদানের বিষয়েও আলোচনা হয়, যা কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং শহরের বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ঢাকা দেশের রাজধানী এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। তাই এই শহরের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেন যে, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যেন দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ