বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়েতে ফাটল: তড়িঘড়ি মেরামত ও যান চলাচলে চরম ঝুঁকি

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তড়িঘড়ি করে গর্ত ভরাটের কাজ চললেও, মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়ই চলছে যান চলাচল, যা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

শেয়ার করুন:
ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়েতে ফাটল: তড়িঘড়ি মেরামত ও যান চলাচলে চরম ঝুঁকি

বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি বড় ধরনের ফাটল ও গর্ত দেখা দিয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে এসব গর্ত ভরাট করার উদ্যোগ নিয়েছে, তবে মানসম্মত মেরামত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় সড়কের স্থায়িত্ব ও যান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তড়িঘড়ি করে চালানো এই মেরামতের ফলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে সামাল দেওয়া গেলেও, দীর্ঘমেয়াদে এর ফল ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করায়, সড়কের এই বেহাল দশা যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এক্সপ্রেসওয়ের একাধিক অংশে গভীর ফাটল এবং ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সৃষ্ট চাপ এবং আবহাওয়াগত কারণ এই ফাটলের জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। এসব ফাটল এতটাই গভীর যে, এর ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সড়কের এই ভঙ্গুর অবস্থা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, যা প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, ফাটলযুক্ত স্থানে গাড়ি উঠলেই ঝাঁকুনি সৃষ্টি হয় এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় থাকে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুততার সঙ্গে মেরামত কাজ চলছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই মেরামত কাজে পর্যাপ্ত সময় ও মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে শুধু পিচ ও ইটের খোয়া দিয়ে গর্ত ভরাট করা হচ্ছে, যা বৃষ্টির পানিতে বা ভারী যানবাহনের চাপে সহজেই উঠে যাচ্ছে। ফলে একই স্থানে বারবার মেরামত করতে হচ্ছে, যা সরকারি অর্থের অপচয় এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের অপরিকল্পিত ও তড়িঘড়ি মেরামত দীর্ঘমেয়াদে সড়কের কাঠামোকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

এক্সপ্রেসওয়েটি দেশের পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সংযোগ স্থাপনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এর মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ও যাত্রী চলাচল নির্বিঘ্ন হয় এবং রাজধানী ঢাকার ওপর চাপ কমে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই বেহাল দশা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সড়কের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এর নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে এই এক্সপ্রেসওয়ে নিরাপদ ও টেকসই থাকে।

যানজট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সরকার এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক বছরের মধ্যেই সড়কের এমন দুরবস্থা এর নির্মাণকাজের মান এবং তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। সড়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু গর্ত ভরাট করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; বরং সড়কের ফাটলগুলোর মূল কারণ খুঁজে বের করে একটি সুদূরপ্রসারী ও প্রকৌশলগত সমাধান গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায়, এই এক্সপ্রেসওয়ের রক্ষণাবেক্ষণে ভবিষ্যতে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে এবং এর কার্যকারিতা হ্রাস পাবে।

সড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীরা তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। একজন ট্রাকচালক বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মালামাল নিয়ে যাতায়াত করি। ফাটল আর গর্তের কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কর্তৃপক্ষকে দ্রুত স্থায়ী সমাধান করতে হবে।” যাত্রীরাও সড়কের এই ভঙ্গুর দশায় আতঙ্কে থাকেন এবং দ্রুত গতিতে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ভয়ে থাকেন। তাদের মতে, কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এই সমস্যার প্রতি আরও মনোযোগ দিতে হবে এবং জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

এমতাবস্থায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা পরিচালনা করে ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের ফাটল ও গর্তের স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। কেবল তড়িঘড়ি মেরামত নয়, বরং আধুনিক প্রকৌশল পদ্ধতি ব্যবহার করে টেকসই সংস্কার করা অত্যাবশ্যক। একই সঙ্গে, নির্মাণকাজের মান এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষিত থাকে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ