রবিবার, 4 অক্টোবর 2026
⚠ ব্রেকিং
জাতীয় 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের মানবিক উদ্যোগ: সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ১২ লাখ টাকা তহবিল সংগ্রহ

সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে নানা মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমে মুখরিত ছিল ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান। রক্তদান কর্মসূচি, নারী উদ্যোক্তাদের প্ল্যাটফর্ম এবং চ্যারিটি রানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে মোট ১২ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে, যা 'মজার স্কুল'-কে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:
ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের মানবিক উদ্যোগ: সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ১২ লাখ টাকা তহবিল সংগ্রহ

সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে 'দেওয়া'র অর্থকে নতুনভাবে উদযাপন করেছে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান। রক্তদান থেকে শুরু করে নারী উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানো, চ্যারিটি রান আয়োজন থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য তহবিল সংগ্রহ—এমন বহুবিধ সামাজিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের মানবিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আইএইচজি হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসের ‘গিভিং ফর গুড মান্থ ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এই মাসব্যাপী কার্যক্রমে মোট ১২ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে নিয়োজিত ‘মজার স্কুল’ নামক একটি সংস্থাকে প্রদান করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ছোট ছোট প্রচেষ্টা কীভাবে একটি বৃহৎ সামাজিক পরিবর্তনে অবদান রাখতে পারে, তা আবারও প্রমাণিত হলো।

এই মানবিক কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল ‘ড্রপস অব হোপ’ নামক একটি রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই ক্যাম্পে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের প্রায় ৫০ শতাংশ কর্মী স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। এই মহতী উদ্যোগের ফলে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন থ্যালাসেমিয়া রোগী ও তাঁদের পরিবারকে সহায়তা করা সম্ভব হয়েছে। রক্তদাতাদের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ অনেক জীবনকে নতুনভাবে বাঁচার আশা জুগিয়েছে এবং সমাজে রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ‘W.O.W Market—Women of Worth and Wonder’-এর দ্বিতীয় সংস্করণে ৩০ জন নারী উদ্যোক্তা, কারিগর ও সৃজনশীল পেশাজীবী তাঁদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পান। পোশাক, হস্তশিল্প, পাট ও নারকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরি পণ্য থেকে শুরু করে ঘরে তৈরি খাবার—স্থানীয় সৃজনশীলতার এক অনন্য প্রদর্শনী ছিল এই বাজার। প্রতিটি উদ্যোক্তা স্টল বাবদ ৩ হাজার টাকা করে দেন, যার সম্পূর্ণ অর্থ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা ‘মজার স্কুল’-কে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, তাঁদের পণ্য বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ সরাসরি উদ্যোক্তাদের কাছেই যায়, যা তাঁদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে সহায়ক হয়।

স্বাস্থ্য, ফিটনেস এবং সমাজসেবাকে একসূত্রে গাঁথার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল ‘রান ফর চ্যারিটি: মিনিংফুল ম্যারাথন ২.০’। পাঁচ কিলোমিটারের এই দৌড়ে হোটেলের কর্মী, করপোরেট পার্টনার, কমিউনিটির সদস্য, দৌড়প্রেমী এবং বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় জাহিদ হাসান এমিলিসহ ২০০ জনেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। প্রতিজনের ১ হাজার ৫০০ টাকা অংশগ্রহণ ফি থেকে ৩ লাখ টাকার বেশি সংগ্রহ করা হয়, যা ‘মজার স্কুল’-এর জন্য গঠিত তহবিলে যুক্ত করা হয়। এই উদ্যোগ শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি পরোপকারের গুরুত্ব তুলে ধরে এবং মানুষকে এক মহৎ উদ্দেশ্যে একত্রিত করে।

মাসব্যাপী এই মহৎ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে ১ অক্টোবর আয়োজিত ‘জয় অব গিভিং চ্যারিটি ডিনার’-এর মাধ্যমে। এই বিশেষ আয়োজনে হোটেলের কর্মীরা ব্যক্তিগতভাবে দেড় লাখ টাকা অনুদান দেন, যা সম্মিলিত তহবিলের পরিমাণকে আরও বৃদ্ধি করে। রক্তদান কর্মসূচি, নারী উদ্যোক্তাদের বাজার এবং চ্যারিটি রান থেকে সংগৃহীত অর্থের সঙ্গে এই ব্যক্তিগত অনুদান মিলে ‘গিভিং ফর গুড’ উদ্যোগ থেকে ‘মজার স্কুল’-এর জন্য মোট ১২ লাখ টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এই বিশাল অঙ্কের তহবিল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

অনুষ্ঠানে ডোরিনের সিনিয়র গ্রুপ অ্যাডভাইজর ও বোর্ড সদস্য ফিরোজ আসাদ, ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের জেনারেল ম্যানেজার কার্থি ভিকে এবং ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট–এর ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার অশ্বিনী নায়ার আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ লাখ টাকার চেক ‘মজার স্কুল’-এর প্রতিষ্ঠাতা আরিয়ান আরিফের হাতে তুলে দেন। এই অর্থ ২০০ জনেরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুর শিক্ষা, পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় সহায়তায় ব্যবহৃত হবে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের শুধু আশ্রয় ও যত্ন নিশ্চিত করাই নয়, বরং তাদের শিক্ষা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘মজার স্কুল’-এর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়।

‘জয় অব গিভিং চ্যারিটি ডিনার’ শুধু তহবিল হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং ছিল আনন্দ ও উদযাপনের এক বর্ণাঢ্য উপলক্ষ। অনুষ্ঠানে জাদুকর সাকলাইন হোসেনের ম্যাজিক পারফরম্যান্স, কমেডি পরিবেশনা এবং ‘মজার স্কুল’-এর শিক্ষার্থীদের বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অতিথিদের মুগ্ধ করে। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশনা অতিথিদের মন জয় করে নেয় এবং তাদের মুখে হাসি ফোটায়। এই ধরনের অনুষ্ঠান সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে একত্রিত করে এবং মানবিকতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।

পরে মনোজ্ঞ সংগীত পরিবেশনা ও বুফে ডিনারের মধ্য দিয়ে সন্ধ্যা শেষ হয়, যা অতিথিদের জন্য এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে। ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের এই মাসব্যাপী কার্যক্রম কেবল একটি হোটেলের সামাজিক দায়বদ্ধতার উদাহরণ নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কত বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। ‘গিভিং ফর গুড’ উদ্যোগের মাধ্যমে তারা সমাজকে ‘দেওয়া’র গুরুত্ব সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনে আশার আলো জ্বালিয়েছে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ