বুধবার, 14 অক্টোবর 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা

হকার উচ্ছেদে বদলে গেল মিরপুর ১০: পথচারীদের স্বস্তি, তবে অন্য এলাকায় ভিন্ন চিত্র

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানের পর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও এর আশপাশের ফুটপাতের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। দীর্ঘদিনের জটলা ও দখলমুক্ত হয়ে পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন হলেও, মিরপুর ১ ও টোলারবাগে এখনো ফুটপাত বেদখল। এই দ্বৈত চিত্র নগরীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে।

শেয়ার করুন:
হকার উচ্ছেদে বদলে গেল মিরপুর ১০: পথচারীদের স্বস্তি, তবে অন্য এলাকায় ভিন্ন চিত্র

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) এক বিশেষ উচ্ছেদ অভিযানের পর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও এর আশপাশের এলাকার চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। দীর্ঘদিনের জটলা, যানজট এবং দখলকৃত ফুটপাত এখন অনেকটাই পরিচ্ছন্ন। নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এই বাণিজ্যিক এলাকার ফুটপাতগুলো বর্তমানে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে। এই পরিবর্তন মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার জনজীবনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে আগে ফুটপাত দিয়ে হাঁটাচলা করা ছিল এক দুঃসাধ্য ব্যাপার।

ডিএনসিসি’র এই অভিযান অবশ্য সহজ ছিল না। ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই উচ্ছেদ কার্যক্রমে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও অংশ নেন। অবৈধ দখলদার হকাররা প্রাথমিক পর্যায়ে এই অভিযানে বাধা দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি একপর্যায়ে কিছুটা উত্তপ্ত হলেও, কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপরই ফুটপাতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যা এই এলাকার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার অবসান ঘটায়।

উচ্ছেদের পর থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরের চেনা চিত্র এখন অতীত। পূর্বে যেখানে হকারদের পসরা, ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় এবং যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ দেখা যেত, সেখানে এখন প্রশস্ত ও পরিচ্ছন্ন ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত। স্থানীয়দের মতে, এই পরিবর্তন শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং পথচারীদের নিরাপত্তা ও চলাচলের গতিও বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষের জন্য এটি এক বিরাট স্বস্তির কারণ হয়েছে, কারণ তাদের আর ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়কে নেমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে না।

তবে, নগরীর সব স্থানে এমন সাফল্য এখনও আসেনি। মিরপুর ১০ নম্বরে স্বস্তি ফিরলেও, ঢাকার অন্যান্য এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান। উদাহরণস্বরূপ, মিরপুর ১ নম্বর এবং টোলারবাগ এলাকায় এখনও সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে কেনাবেচা চলছে। এই অঞ্চলগুলোতে পথচারীরা আগের মতোই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, যেখানে ফুটপাতগুলো হকারদের দখলে থাকায় তাদের মূল সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা প্রায়শই ছোটখাটো দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার এই প্রচেষ্টা নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে সিটি কর্পোরেশন এমন অভিযান পরিচালনা করলেও, কিছুদিন পর আবারও হকাররা ফুটপাত দখল করে নেয়। এটি একটি চক্রাকার সমস্যা, যেখানে একদিকে পথচারীদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়, অন্যদিকে হকারদের জীবিকার প্রশ্নটিও সামনে আসে। তবে, জনস্বার্থ এবং নগরীর শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা অত্যাবশ্যকীয় বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, বরং ফুটপাত পুনরায় বেদখল হওয়া রোধে নিয়মিত তদারকি ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। হকারদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা না গেলে এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা কঠিন। একটি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল নগরীর ফুটপাতগুলোকে স্থায়ীভাবে পথচারীবান্ধব করে তোলা সম্ভব, যেখানে সকলের স্বার্থ রক্ষা পাবে।

মিরপুর ১০ নম্বরের এই সাফল্য অন্যান্য এলাকার জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, সিটি কর্পোরেশনের দৃঢ় পদক্ষেপ এবং জনগণের সহযোগিতা থাকলে নগরীর চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। তবে, এই পরিবর্তন ধরে রাখা এবং অন্যান্য এলাকায়ও এর পুনরাবৃত্তি ঘটানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নগর কর্তৃপক্ষকে এক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে হবে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ