আজ শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা এক ভিন্ন রূপে ধরা দিয়েছে। ভোরের আলো ফুটতেই আকাশ মেঘে ঢেকে যায় এবং এরপর শুরু হয় ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, যা বেলা বাড়ার সাথে সাথে মাঝারি বর্ষণে রূপ নেয়। এই আকস্মিক বৃষ্টিতে নগরীর স্বাভাবিক জনজীবন অনেকটাই প্রভাবিত হয়েছে। বিশেষ করে যারা সকালে অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, তাদের অপ্রত্যাশিত ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। ছাতা বা রেইনকোট ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া মানুষজন আশ্রয় খুঁজেছেন বিভিন্ন ছাউনির নিচে, আর অনেককেই ভিজে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
সকাল ৭টা বাজার পর থেকেই বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। গণপরিবহনের অপ্রতুলতা এবং ধীর গতির কারণে অফিসগামী মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শুরু হয়। স্কুলগামী শিক্ষার্থীরাও অভিভাবকসহ চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেক নিচু এলাকায় দ্রুত পানি জমে যাওয়ায় পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হয় এবং ছোট যানবাহনগুলোও চলাচলে বেগ পায়। মিরপুর, ফার্মগেট, মতিঝিল, ধানমন্ডি এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার সড়কগুলোতে যানজটের মাত্রা ছিল চোখে পড়ার মতো।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। একইসাথে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২ থেকে ৩ দিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে, যা দিন ও রাতের তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তা এবং লঘুচাপের সম্মিলিত প্রভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই সময়ে দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে, সমুদ্রবন্দরগুলোকে আপাতত কোনো সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়নি। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই বৃষ্টির কারণে নগরীর দূষিত বাতাস কিছুটা পরিষ্কার হলেও, জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা, যারা দিনমজুর বা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন, তাদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক দোকানে ক্রেতা সমাগম কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সিটি কর্পোরেশনকে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী।
সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হতে এবং বের হলেও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে বের হতে। যানজট পরিস্থিতি এড়াতে বিকল্প পথ ব্যবহারের চেষ্টা করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করার মাধ্যমে যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার কথা বলা হয়েছে। এই বৃষ্টিপাত কৃষিক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও, শহরাঞ্চলে এর প্রভাব মূলত চ্যালেঞ্জিং।
আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই বৃষ্টিপাত কমে আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, এর আগে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ এবং যানজট পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও তৎপর হতে হবে। সামগ্রিকভাবে, হঠাৎ এই বর্ষণ একদিকে যেমন প্রকৃতিতে সজীবতা এনেছে, তেমনি অন্যদিকে নগর জীবনে সাময়িক ছন্দপতন ঘটিয়েছে, যা মোকাবিলায় সচেতনতা ও প্রস্তুতি জরুরি।