সোমবার, 28 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
জাতীয় 🇧🇩 বাংলা

সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা ৪০ করার দাবিতে মিরপুরে উত্তাল মানববন্ধন, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ন্যূনতম ৪০ বছর করার দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছে ‘সমন্বিত বয়স বৃদ্ধি আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন। রোববার মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কর্মহীন তরুণেরা অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শেয়ার করুন:
সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা ৪০ করার দাবিতে মিরপুরে উত্তাল মানববন্ধন, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে সরকারি চাকরিতে আবেদনের ন্যূনতম বয়সসীমা ৪০ বছর করার দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সমন্বিত বয়স বৃদ্ধি আন্দোলন’ নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো কর্মহীন ও বেকার তরুণ অংশ নেন। রোববার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বক্তারা বর্তমান বয়সসীমাকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানান এবং দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বর্তমান বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ন্যূনতম ৪০ বছরে উন্নীত করা। তারা যুক্তি দেন যে, করোনা মহামারির কারণে গত কয়েক বছর ধরে অসংখ্য নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল অথবা ধীরগতিতে চলেছে, যার ফলে অনেক চাকরিপ্রত্যাশীর মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে এবং তারা বয়সের কারণে আবেদন করার সুযোগ হারিয়েছেন। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বহু তরুণের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে।

মানববন্ধনে ‘সমন্বিত বয়স বৃদ্ধি আন্দোলন’-এর সমন্বয়ক রোমান কবির বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল যে তারা চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সসীমা উঠিয়ে দেবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার আট মাস ধরে ক্ষমতায় থাকলেও তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সরকারের এই নীরবতা চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরেক সমন্বয়ক মামুন রশিদ তার বক্তব্যে করোনা মহামারির ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, করোনা আমাদের জীবন থেকে দু-তিনটি মূল্যবান বছর কেড়ে নিয়েছে, যা স্বাভাবিক চাকরিপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। এর পাশাপাশি, তিনি তথাকথিত ‘ফ্যাসিবাদী আমলে’ প্রশ্ন ফাঁস, ঘুষ, দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতির মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তার মতে, এসব কারণে চাকরিপ্রত্যাশীদের যৌবনের দীর্ঘ ১৭টি বছর নষ্ট হয়েছে, যা তাদের জন্য এক বিরাট ক্ষতির কারণ।

মামুন রশিদ আরও যোগ করেন, রাষ্ট্র যেন এই সমস্ত বঞ্চনার পর আমাদের উপহার দিয়েছে এক বৈষম্যমূলক দেয়াল, যার নাম ‘বয়সের সীমা’। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে কি আমরা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে জীবন বাজি রাখিনি? তার এই বক্তব্য চাকরিপ্রত্যাশীদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও প্রতিবাদের ইঙ্গিত দেয় এবং তাদের অধিকার আদায়ের প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করে।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অন্যান্য সমন্বয়ক মতিউর রহমান ও সদস্য জাসেম আলমও তাদের বক্তব্যে বয়সসীমা বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এই সীমা ৪০ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। সুতরাং, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দাবি সম্পূর্ণ সঙ্গত এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে অপরিহার্য।

চাকরিপ্রত্যাশীরা আরও জানান, উচ্চশিক্ষা শেষ করতে করতে অনেকেরই ৩০ বছর পার হয়ে যায়। এরপর যদি বিভিন্ন কারণে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে বিলম্ব হয় অথবা পরীক্ষা প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে তাদের পক্ষে সরকারি চাকরিতে আবেদন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এটি দেশের মেধা ও শ্রমের অপচয় বলেও তারা মনে করেন। অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান না হলে তারা রাজপথে আরও বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ