Login সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও খুঁজুন ই-পেপার Eng Login অনুবাদ আলফঁস দোদের গল্প বৃদ্ধ দম্পতি আলফঁস দোদে ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত ফরাসি ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকার। ১৮৪০ সালে ফ্রান্সের নিম শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্বজুড়ে সমাদৃত আলফঁস দোদের রচনার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে দক্ষিণ ফ্রান্সের প্রোভঁসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম। ‘আমার হাওয়া কলঘর থেকে লেখা চিঠিগুলো’ এবং ‘তারাসকঁ-এর তারতারাঁ’ তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। বিশেষ করে তাঁর ছোটগল্প ‘শেষ পাঠ’ বিশ্বসাহিত্যে এক অমর সৃষ্টি, যা দেশপ্রেম ও মাতৃভাষার গুরুত্বকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ফরাসি সাহিত্যে স্বাভাবিকতাবাদ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁর রচনাশৈলী ছিল অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি মানবিক ও গীতিধর্মী। ১৮৯৭ সালে তিনি পারীতে মৃত্যুবরণ করেন। এখানে তাঁর ‘বৃদ্ধ দম্পতি’ গল্পটি তুলে ধরা হলো। গল্পটি অনুবাদ করেছেন আহমেদ সজীব
গল্পটির একটি ফরাসি অলংকরণ ও আলফঁস দোদের চিত্র অবলম্বনে প্রথম আলো গ্রাফিকস একটি চিঠি, বাবা আজান?
পারী থেকে চিঠি এসেছে ভেবে বেচারা বাবা আজান বেশ গর্ব বোধ করছিলেন...কিন্তু আমার মোটেও সে রকম কিছু হয়নি। কিছু একটা আমাকে বলছিল যে রু জঁ-জাক থেকে আসা পারীর এই চিঠিটা সাতসকালে হঠাৎ টেবিলের ওপর আবির্ভূত হয়ে আমার পুরো দিনটাই মাটি করে দেবে। আর আমার আশঙ্কাই সত্যি হলো, নিজেই দেখো:
বন্ধু, তোমাকে আমার একটা উপকার করতে হবে। তুমি এক দিনের জন্য হলেও তোমার কলঘর বন্ধ করো এবং এখনই ‘এগিয়েরের উদ্দেশে রওনা দাও...’
এগিয়ের একটি বড় গ্রাম, তোমার ওখান থেকে মাত্র তিন-চার লিও* দূরে—একটা ছোটখাটো ভ্রমণের পথ। ওখানে পৌঁছেই তুমি ‘অনাথদের আশ্রম’ কোথায় জিজ্ঞেস করবে। ওই আশ্রমের ঠিক পরেই প্রথম যে নিচু বাড়িটা দেখবে, যার জানালাগুলো ধূসর রঙের আর পেছনে একটা ছোট বাগান আছে, সেটাই।
তুমি কড়া না নেড়ে সরাসরি ভেতরে ঢুকে যাবে—দরজা সব সময় খোলাই থাকে আর ভেতরে ঢুকেই বেশ জোরে হাক দেবে: ‘শুভ দিন, সুধীজন! আমি মরিসের বন্ধু...’ অমনি দেখবে, দুজন ছোটখাটো বুড়ো মানুষ—উফ্! সে কী বুড়ো, ভীষণ বুড়ো, একেবারে প্রাচীন—তাদের বড় বড় আরামকেদারা থেকে তোমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন, তুমি আমার পক্ষ থেকে মন উজাড় করে তাঁদের জড়িয়ে ধরবে, ঠিক এমনভাবে যেন তাঁরা তোমারই আপনজন। তারপর তোমরা গল্প করবে; তাঁরা তোমার