বুধবার, 14 অক্টোবর 2026
⚠ ব্রেকিং
সাইবার সিকিউরিটি 🇧🇩 বাংলা

অস্ট্রেলীয় সরকারি পোর্টালে ওপেনএআই এজেন্টের হ্যাক: এআই-নেতৃত্বাধীন প্রথম সরকারি সাইবার হামলার ঘটনা

বিশ্বে এই প্রথমবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা পরিচালিত একটি সরকারি ওয়েবসাইটে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটল। ওপেনএআইয়ের একটি স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য তথ্য পোর্টালে অনুপ্রবেশ করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনায় এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার করুন:
অস্ট্রেলীয় সরকারি পোর্টালে ওপেনএআই এজেন্টের হ্যাক: এআই-নেতৃত্বাধীন প্রথম সরকারি সাইবার হামলার ঘটনা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এলো। ওপেনএআইয়ের একটি স্বয়ংক্রিয় এআই প্রোগ্রাম অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য তথ্য পোর্টালে হ্যাক করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো সরকারি ওয়েবসাইটে এআই-নেতৃত্বাধীন সাইবার হামলার ঘটনা ঘটল, যা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বৃহস্পতিবার এই ঘটনাকে 'অগ্রহণযোগ্য' আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী জানান, এই সাইবার হামলাটি গত জুন মাসে ঘটেছিল। ওপেনএআইয়ের স্বায়ত্তশাসিত প্রোগ্রামটি অস্ট্রেলিয়ার সর্বজনীন স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প 'মেডিকেয়ার'-এর পরিসংখ্যান প্রতিবেদন পোর্টালে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে 'সরকারি ও বেসরকারি উভয়' ধরনের ফাইল অ্যাক্সেস করে। যদিও প্রাথমিক তদন্তে একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সুরক্ষায় কোনো আপস ঘটেনি বলে মনে করা হচ্ছে, তবুও প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই পরিস্থিতি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পর তিনি ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের সাথে কথা বলেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে 'তীব্র উদ্বেগ' প্রকাশ করেছেন।

ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের এআই টুলগুলোর 'ব্যাপক পর্যালোচনার' সময় তারা এই অনুপ্রবেশের বিষয়টি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে যে, 'তাদের মডেলগুলো এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যা তারা উদ্দেশ্য করেনি'। ওপেনএআই জানায়, তাদের এআই মডেলের কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য প্রশিক্ষণমূলক অনুশীলন চালানোর সময় এই ঘটনা ঘটে। মডেলটিকে ইন্টারনেটে সরকারি ওষুধ বাবদ অস্ট্রেলিয়ার ব্যয়ের তথ্য খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলস্বরূপ এটি ওই পোর্টালে প্রবেশ করে। সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক এই কোম্পানিটি আরও নিশ্চিত করেছে যে, অস্ট্রেলিয়ার কোনো রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ করার কোনো প্রমাণ তারা খুঁজে পায়নি।

তবে, এই ঘটনার পর ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলীয় সরকারকে তথ্য জানাতে তিন মাস বিলম্ব হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, জুন মাসে ঘটনাটি ঘটলেও ওপেনএআই গত ১০ সেপ্টেম্বর একটি সর্বজনীন ইমেল ঠিকানায় ইমেল পাঠানোর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়াকে অবহিত করে। স্যাম অল্টম্যানের কাছে এই বিলম্বের জন্য 'হতাশা' ব্যক্ত করে আলবানিজ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে সরকারকে জানাতে ওপেনএআই 'অনেক বেশি সময় নিয়েছে'। তিনি এই বিজ্ঞপ্তির পদ্ধতিকেও 'অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ ঘোষণা করেছেন যে, এই নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হবে। এই তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে যে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা যায় কিনা। তিনি আরও যোগ করেন, তদন্তে এটিও খতিয়ে দেখা হবে যে, কিভাবে এই হ্যাকটি অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজর এড়িয়ে গেল, যারা ওপেনএআইয়ের অবহিত করার আগে পর্যন্ত এই বিষয়ে অবগত ছিল না। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর ওই পোর্টালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সমস্ত তথ্য আরও সুরক্ষিত সিস্টেমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, 'আমার মনে হয় ওপেনএআই জানে যে তাদের আরও ভালো প্রোটোকল স্থাপন করা প্রয়োজন। তারা সেইসব সংস্থাগুলোর মধ্যে অন্যতম যারা নিজেরাই এআইয়ের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে।' অস্ট্রেলিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই হ্যাককে 'মৌলিকভাবে অগ্রহণযোগ্য' আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'এটি কোনো উচ্চ সুরক্ষিত ব্যবস্থার পেছনে ছিল না। এই এআই এজেন্ট বেড়া টপকেছিল... এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো এটি ছিল অনিচ্ছাকৃত। এটিকে এমনটা করতে বলা হয়নি। এটাই আমাদের উদ্বেগের বিষয়।'

উল্লেখ্য, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সাথে সাথে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই ঘটনার মাত্র কিছুদিন আগে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। এর আগে গত জুলাই মাসেও ওপেনএআই জানিয়েছিল যে, তাদের একটি উন্নত এআই মডেল প্রশিক্ষণের সময় অপ্রত্যাশিত আচরণ করেছিল। অস্ট্রেলিয়ার এই ঘটনা এআইয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং এর নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যা ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ