বৃহস্পতিবার, 9 জুলাই 2026
⚠ ব্রেকিং
সাইবার সিকিউরিটি 🇧🇩 বাংলা

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন পর্যালোচনায় আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন: ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আহ্বায়ক

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৫-এর বিভিন্ন ধারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ প্রদানের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় পরামর্শ কমিটি গঠন করেছে সরকার। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গত ২৯ জুন বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:
সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন পর্যালোচনায় আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন: ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আহ্বায়ক

দেশের সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও সুদৃঢ় ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৫-এর বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনার জন্য একটি পাঁচ সদস্যের আন্তঃমন্ত্রণালয় পরামর্শ কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সরকার। এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনের বিষয়ে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করবে। গত ২৯ জুন বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই কমিটির গঠনের কথা জানানো হয়, যা দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নবগঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে অন্যান্য সদস্য হিসেবে থাকবেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীগণ। দেশের শীর্ষস্থানীয় চারটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি সাইবার সুরক্ষার মতো একটি জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়ে গভীর ও সামগ্রিক পর্যালোচনা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদাধিকারীগণ নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কমিটির কার্যক্রমে যুক্ত করবেন, যা আইনটির সংশোধনের ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি আনবে।

কমিটির কার্যপরিধিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, তারা সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৫-এর প্রতিটি ধারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে। ডিজিটাল অপরাধের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং একই সাথে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইনটির বর্তমান কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করাই কমিটির মূল উদ্দেশ্য। এই পর্যালোচনার মাধ্যমে আইনের যে সকল ক্ষেত্রে সংস্কার বা সংযোজন প্রয়োজন, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন ও সুপারিশমালা তৈরি করা হবে, যা সরকারের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সহায়ক হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে কমিটি প্রয়োজন অনুসারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের কো-অপ্ট করার ক্ষমতাও ধারণ করবে। সাইবার নিরাপত্তা একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল ক্ষেত্র হওয়ায়, প্রযুক্তিগত, আইনি এবং সামাজিক বিভিন্ন দিক থেকে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান অপরিহার্য। এই ক্ষমতা কমিটির পর্যালোচনাকে আরও গভীর ও বাস্তবসম্মত করবে, যার ফলে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো বর্তমান ও ভবিষ্যতের ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে। এটি নিশ্চিত করবে যে আইনটি শুধুমাত্র তাত্ত্বিক নয়, বরং প্রযুক্তিগতভাবেও কার্যকর ও প্রয়োগযোগ্য।

কমিটির সভা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে সাচিবিক সহায়তা প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপর। এই মন্ত্রণালয় কমিটির সকল লজিস্টিক ও প্রশাসনিক প্রয়োজন মেটাবে, যাতে কমিটির সদস্যরা নির্বিঘ্নে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। প্রজ্ঞাপন জারির সাথে সাথেই এই আদেশ কার্যকর হয়েছে, যা সরকারের এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত দেয় এবং সাইবার সুরক্ষার গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মনোভাব প্রতিফলিত করে।

সাইবার সুরক্ষা আইন দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিকদের অনলাইন কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান ডিজিটাল যুগে সাইবার অপরাধের ধরন ও ব্যাপ্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে আইনকেও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। এই আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরকার একটি গতিশীল ও সুরক্ষিত ডিজিটাল পরিবেশ তৈরির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আশা করা হচ্ছে, কমিটির সুপারিশমালা একটি সুষম ও কার্যকর আইন প্রণয়নে সাহায্য করবে, যা একদিকে সাইবার অপরাধ দমন করবে এবং অন্যদিকে ডিজিটাল উদ্ভাবন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সুরক্ষা দেবে।

এই উদ্যোগ দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। আধুনিক প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা মানদণ্ডের সাথে সঙ্গতি রেখে আইনটি সংশোধিত হলে তা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনকে আরও সুরক্ষিত করবে। কমিটির সদস্যরা তাদের অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে একটি এমন সুপারিশমালা উপস্থাপন করবেন, যা দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন: