বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ Login গল্প কবিতা কমিকস সাক্ষাৎকার খেলা ফিচার বিনোদন জীবনযাপন চিঠিপত্র আরও ফিচার জামরুল কেন এত পলকা মাহমুদ নেওয়াজ প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ০০ গাছের পাতার ফাঁকে ঝুলে আছে টসটসে জামরুল। উজানচর, কিশোরগঞ্জ, ২৩ অক্টোবর। ছবি: তাফসিলুল আজিজ বাজারের ঝুড়ি থেকে একটা জামরুল তুলে নিলে অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়। দেখতে এত লোভনীয়, রংটাও চোখ টানে। কিন্তু জিনিসটা ভঙ্গুর। হাতে নিলেই বোঝা যায়। সামান্য চাপেই দেবে যায়। এতে আপেলের মতো কামড় বসানো যায় না। এর মধ্যে পেয়ারার সেই মচমচ শব্দও নেই। এই নরম স্বভাবের পেছনে আসলে ফলটির ভেতরের গঠনই দায়ী।
জামরুলের বৈজ্ঞানিক নাম সিজিজিয়াম সামারানজেন্স। লবঙ্গ–জাতীয় গাছের ফল এটি। ইংরেজিতে একে ওয়াটার অ্যাপল বা ওয়াক্স অ্যাপল বলা হয়। দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া এর আদি জন্মস্থান বলে ধরা হয়। এখান থেকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ছড়িয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো গরম ও আর্দ্র অঞ্চলে। নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে একটা ইঙ্গিত। পানি। ১০০ গ্রাম জামরুলের প্রায় ৯০ গ্রামই পানি। বাকিটা সামান্য চিনি, কিছুটা আঁশ, আর অল্প খনিজ উপাদান। এত বেশি পানি থাকার কারণেই ফলটা মূলত এত নরম হয়ে যায়। এ কারণেই গরমের দুপুরে জামরুল খেলে যেমন তেষ্টা মেটে, তেমনি পেট ভরে না বেশি।
কোষের গঠন দেখলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। প্রতিটি উদ্ভিদ কোষের চারপাশে সেলুলোজ দিয়ে তৈরি একটি দেয়াল থাকে। আপেলের কোষ ছোট আর ঘন হয়ে বসানো। দেয়ালও পুরু। তাই কামড়ে মচমচ শব্দ ওঠে। জামরুলের কোষ তুলনায় বড়, দেয়াল পাতলা, আর কোষে কোষে ফাঁকাও বেশি। সেই ফাঁকা জায়গা পানি দিয়ে ভরে থাকে। একে অনেকটা স্পঞ্জের সঙ্গে তুলনা করা যায়। ভেতরে অসংখ্য ছোট ছোট পানির থলি। আঙুলের চাপে থলিগুলো দেবে যায়। এখান থেকেই ওই নরম অনুভূতি আসে। মজার ব্যাপার হলো, একই গাছের জামরুলও সব সময় সমান নরম হয় না। গাছের ওপরের দিকের ডালে যেগুলো বেশি রোদ পায়, সেগুলো তুলনায় একটু শক্ত হয়, আর ছায়ায় থাকা ফলগুলো নরম ও কম মিষ্টি থেকে যায়।
গাছের দিক থেকে দেখলে এই নরম হওয়া কোনো দুর্বলতা নয়; বরং একধরনের কৌশল। বীজ ছাড়ানোর কাজে নরম ফল সুবিধাজনক। পশুপাখি সহজে খায়, বীজও দূরে গিয়ে পড়ে। জামরুলের বীজ এমনিতেই খুব ছোট, অনেক সময় ফলের ভেতরে থাকেই না। গাছের তাই শক্ত আঁশ তৈরিতে বাড়তি শক্তি খরচের দরকার পড়ে না। রোদে শ