রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
রাজনীতি 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধন আলোচনা সম্পন্ন করতে চায় বিশেষ কমিটি: সালাহউদ্দিন আহমদ জানালেন

জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে চায় কমিটি।

শেয়ার করুন:
ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধন আলোচনা সম্পন্ন করতে চায় বিশেষ কমিটি: সালাহউদ্দিন আহমদ জানালেন

জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই অংশীজনদের সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা পর্ব সমাপ্ত করতে বদ্ধপরিকর। কমিটির সভাপতি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কমিটি ইতোমধ্যেই তাদের প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে, যা এই প্রক্রিয়ার দ্রুত অগ্রগতির ইঙ্গিত বহন করে। সংবিধানের প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলি নিয়ে বিভিন্ন মহলের মতামত গ্রহণ এবং সেগুলিকে সমন্বিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করাই এখন কমিটির প্রধান লক্ষ্য।

বিশেষ কমিটির এই দ্বিতীয় বৈঠকে মূলত জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটকে মতবিনিময়ের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যদিও সকল আমন্ত্রিত দল বৈঠকে উপস্থিত ছিল না, তবুও এই সভার মাধ্যমেই অংশীজনদের সঙ্গে কমিটির আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হলো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, কমিটি পর্যায়ক্রমে জুলাই সনদ প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, সাবেক বিচারক, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবে। এই আলোচনাগুলির মাধ্যমে প্রাপ্ত সকল বক্তব্য ও পরামর্শ ধারণ করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পথে কমিটি এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া, জুলাই সনদের বাইরে যদি কোনো পরিপূরক প্রস্তাব আসে, সেগুলিকেও পরামর্শ হিসেবে গ্রহণ করা হবে এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত অঙ্গীকারগুলিও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আলোচনা প্রক্রিয়াকে গতিশীল রাখতে বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাঁরা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিতে চান এবং সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠকের আয়োজন করবেন। তিনি আজকের বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে জানান যে, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি দল ও জোটের মধ্যে ১৫টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। একটি দল তাদের লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছে এবং আরেকটি দলের প্রতিনিধি অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, তিনি মোটামুটি ১৭টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন, যা এই প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দলের সম্পৃক্ততা নির্দেশ করে।

বৈঠকে উপস্থিত প্রায় সকল দলই যত দ্রুত সম্ভব জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ জোর দিয়ে বলেন যে, সকলের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা গেলে জাতি বুঝতে পারবে যে জুলাই সনদ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জুলাই সনদ ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) সহ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল, কমিটি সেভাবেই এটি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। এটি নিশ্চিত করবে যে, সনদের মূল চেতনা ও সকল দিক যেন অপরিবর্তিত থাকে এবং তা সকল অংশীজনের প্রত্যাশা পূরণ করে।

বিশেষ কমিটির সভাপতি আরও উল্লেখ করেন যে, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল মাঠের রাজনীতিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে এই মর্মে যে, বিএনপি সংখ্যাধিক্যের কারণে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না। এই ধরনের প্রচারণাকে তিনি সম্পূর্ণ অসত্য বলে অভিহিত করেন এবং দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমরা জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব, যেভাবে স্বাক্ষরিত, সেভাবেই।’ তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যত দ্রুত সম্ভব সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংসদে বিল আকারে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কমিটি ইতিমধ্যেই সকলের পরামর্শ গ্রহণ করে প্রতিবেদন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে এবং এটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান যে, বিশেষ কমিটি সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় সেটিকে বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তখন সংসদে দীর্ঘ বিতর্কের মধ্য দিয়ে একটি সমঝোতা হবে। কমিটি চায় যে, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হোক, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

সংবিধান সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ কিছু দলের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এবং প্রক্রিয়াটি একপাক্ষিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সম্পর্কে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ তা জোরালোভাবে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘না একপাক্ষিক হচ্ছে না, ১৭ পাক্ষিক হচ্ছে।’ তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি অথবা নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত অন্য দলগুলোও যদি আলোচনা করতে চায়, তবে বিশেষ কমিটির দ্বার তাদের জন্য উন্মুক্ত। কারো যদি কোনো বক্তব্য থাকে, তা লিখিতভাবে জমা দিলে কমিটি তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত আরেকটি প্রশ্ন ছিল যে, আজকের মতবিনিময়ে অংশগ্রহণকারীরা সবাই বিএনপির সমমনা এবং ‘রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’ এই মতবিনিময় বর্জন করেছে, সেক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি একপাক্ষিক হচ্ছে কি না। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখানে যারা অংশগ্রহণ করেছে, সবাই বিএনপির সমমনা নয়। বিরোধী দলবিহীন আরেকটি সংবিধান সংশোধনী আইনি জটিলতা তৈরি করবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটিতে অংশগ্রহণ করছে না ঠিকই, তবে সংবিধান সংশোধনী বিল যখন সংসদে উত্থাপিত হবে, তখন তারা অংশগ্রহণ করবে না, এমন কথা তারা বলেনি। এর মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যতে বৃহত্তর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখেন।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ