আসন্ন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর নির্ধারিত তারিখে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বঘোষিত ২৩ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে এই শিক্ষাবর্ষের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হবে। পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি ঘোষণা করায় বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এবং সরকারি ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা দেশের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ প্রাথমিকভাবে ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে, ওই দিন পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একদিনের সরকারি ছুটি থাকায়, শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ধরনের অসুবিধায় পড়তে না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে ক্লাস শুরুর তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির ক্লাসসমূহ ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এই পরিবর্তিত সময়সূচি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবস, যা মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়। এই বিশেষ দিনে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ছুটি থাকে। শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতি এবং ছুটির দিনের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ক্লাস শুরুর তারিখ একদিন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কর্তৃপক্ষ একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ছুটির পর নতুন উদ্যমে ক্লাসে যোগ দিতে পারবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নির্বিঘ্নে তাদের পাঠদান কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী দূর-দূরান্ত থেকে এসে নতুন কলেজে ভর্তি হয়, তাদের জন্য একদিনের এই পরিবর্তন নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় দেবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও এই অতিরিক্ত একদিনের সুযোগে তাদের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারবে, যা একটি মসৃণ শিক্ষাবর্ষ শুরুর জন্য সহায়ক হবে।
এদিকে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফলাফল গত বুধবার রাতে (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) প্রকাশ করা হয়। অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থীকে প্রথম ধাপে নির্বাচিত করা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এখন তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, যদিও ক্লাস শুরুর তারিখ পরিবর্তনের ফলে তাদের অপেক্ষার পালা একদিন বেড়েছে।
তবে, প্রথম ধাপে আবেদন করেও আসন পাননি ১৪ হাজার ৪১৫ জন শিক্ষার্থী, যা একটি উদ্বেগের বিষয়। এর মধ্যে ২ হাজার ২০৫ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীও রয়েছেন, যারা আবেদন করেও কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হতে পারেননি। এই তথ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি করেছে এবং দ্বিতীয় ধাপের ভর্তির সুযোগের দিকে তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের আসন না পাওয়ার বিষয়টি শিক্ষা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কিছু প্রশ্ন তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে মোট ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং মোট আসনের মধ্যে একটি বিশাল ব্যবধান রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এবারও বিপুল সংখ্যক আসন খালি থাকবে। এই আসন শূন্যতার পেছনে শিক্ষার্থীদের পছন্দ, প্রতিষ্ঠানের মান, ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিষয়ভিত্তিক চাহিদা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণ প্রভাব ফেলে বলে শিক্ষাবিদরা মনে করেন।
বিপুল সংখ্যক আসন খালি থাকার প্রবণতা প্রতি বছরই দেখা যায়। এটি একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য পছন্দের প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার সুযোগও তৈরি করে। তবে, জিপিএ-৫ পেয়েও আসন না পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়টি নিয়ে আরও গভীর পর্যালোচনা প্রয়োজন। সামগ্রিকভাবে, নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরুকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ উভয়ই বিদ্যমান।