শনিবার, 12 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
জাতীয় 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে নজর কেড়েছে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত সান কার ও পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন

রাজধানীর নভোথিয়েটারে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মেলার উদ্বোধন করেন, যেখানে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত সান কার, সোলার সেচ পাম্প এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যসহ বিভিন্ন উদ্ভাবন দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। 'ইনোভেট টু মার্কেট' প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই মেলায় প্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতে নতুনত্বের ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে।

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে নজর কেড়েছে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত সান কার ও পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন

রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে গত শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার। 'ইনোভেট টু মার্কেট' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসংখ্য উদ্ভাবক ও গবেষক তাদের নিজেদের তৈরি উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো নিয়ে এই মেলায় অংশ নিয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এই মেলায় প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের উদ্ভাবন ও ধারণা প্রদর্শন করা হচ্ছে, যার মধ্যে বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত যাত্রীবাহী গাড়ি 'সান কার' এবং 'সোলার সেচ' পাম্প দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মেলায় ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ তাদের উদ্ভাবনী সৌরবিদ্যুৎ-চালিত চার চাকার 'সান কার' প্রদর্শন করছে, যা যাত্রীবাহী অটোরিকশার একটি পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই বাহনটি চালকসহ তিনজন যাত্রী বহন করতে সক্ষম এবং এর বিশেষত্ব হলো এটি চলার সময় সূর্যের আলো থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাটারি চার্জ করতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ইমরান চৌধুরী জানান, 'আমরা সান কার নামে যে যাত্রীবাহী গাড়ি তৈরি করেছি, তা সম্পূর্ণভাবে সূর্যের আলোতে চলে। সূর্যের আলো না থাকলেও এটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে। প্যাডেলচালিত ও বিদ্যুৎ-চালিত রিকশার বিকল্প হিসেবে এটি তৈরি করা হয়েছে এবং চার চাকার হওয়ায় এটি তুলনামূলকভাবে কম দুর্ঘটনাপ্রবণ। এই গাড়িটি তৈরি করতে আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যা এর বাণিজ্যিকীকরণের পথ সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।'

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও মেলায় তাদের নিজস্ব তৈরি সৌরবিদ্যুৎ-চালিত সেচ পাম্প 'সোলার সেচ' এবং বৈদ্যুতিক মোটরবাইক ও গাড়ি প্রদর্শন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন প্রভাষক ইমতিয়াজ আহমেদ তাদের উদ্ভাবন সম্পর্কে বলেন, 'আমরা বিদ্যুৎ-চালিত বাইক ও গাড়ি তৈরি করেছি, যা জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। তবে আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন হলো সৌরবিদ্যুৎ-চালিত পাম্প 'সোলার সেচ'। কৃষিজমির সেচ কাজে ব্যবহারের উপযোগী এই পাম্পটি মাত্র ২০ সেকেন্ডে ৫০০ লিটার পানি উত্তোলন করতে সক্ষম, যা দেশের কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটাতে পারে।' এই উদ্ভাবন কৃষকদের জন্য সেচ খরচ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) তাদের উদ্ভাবনী আগ্নেয়াস্ত্রের প্রোটোটাইপ 'চৌকস প্রহরী' প্রদর্শন করছে, যা নিরাপত্তা খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এমআইএসটির সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জাওয়াদুর রহমান জানান, 'আমাদের সীমান্ত এলাকায় অনেক দুর্গম অঞ্চল রয়েছে, যেখানে সব সময় সহজে পৌঁছানো সম্ভব হয় না এবং এসব এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুলি করতে সক্ষম এ ধরনের প্রযুক্তি বিদ্যমান। আমাদের তৈরি 'চৌকস প্রহরী' নামক আগ্নেয়াস্ত্রটি ক্যামেরাযুক্ত হওয়ায় দূর থেকে এটি ব্যবহার করা সম্ভব এবং এটি স্বয়ংক্রিয় বা মানুষের সহায়তায় উভয় পদ্ধতিতেই কাজ করতে পারে, যা দুর্গম এলাকার নিরাপত্তায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।'

'শূন্য' নামের একটি প্রতিষ্ঠান আখের ছোবড়া থেকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্লেট ও গ্লাস প্রদর্শন করছে, যা পরিবেশ দূষণ রোধে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা আকিল আহমেদ বলেন, 'আমরা মূলত আখের ফেলে দেওয়া অংশ বা বর্জ্য নিয়ে কাজ করি। আখের বর্জ্য ব্যবহার করে আমরা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লেট ও গ্লাস তৈরি করছি, যা পরিবেশবান্ধব। এই পণ্যগুলোর দাম প্লাস্টিকের তৈরি প্লেট ও গ্লাসের প্রায় কাছাকাছি, কিন্তু প্লাস্টিকের মতো পরিবেশের ক্ষতি করে না।' এই উদ্ভাবন এককালীন ব্যবহার্য প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

প্রদর্শনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা, সংলাপ, অধিবেশন ও গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে। এসব আয়োজনে উদ্ভাবন, গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা তৈরি এবং উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই সেশনগুলো নতুন উদ্ভাবকদের জন্য অনুপ্রেরণা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মেলার দ্বিতীয় দিন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই অধিবেশনে সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। উদ্ভাবকদের ধারণাগুলোকে কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায় এবং সেগুলো সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই বিষয়গুলোও এই মেলায় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ