রবিবার, 13 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা

নোংরা পরিবেশ ও লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম: ধানমন্ডির জিংলিং রেস্টুরেন্টকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

রাজধানীর ধানমন্ডির জিংলিং রেস্টুরেন্টকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে। বৃহস্পতিবার পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে এই অনিয়মগুলো উদঘাটিত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।

শেয়ার করুন:
নোংরা পরিবেশ ও লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম: ধানমন্ডির জিংলিং রেস্টুরেন্টকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ধানমন্ডির জিংলিং রেস্টুরেন্টকে নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার প্রস্তুতসহ একাধিক গুরুতর অনিয়মের কারণে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পরিচালিত এক ভ্রাম্যমাণ আদালত এই জরিমানা ধার্য করে, যা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কর্তৃপক্ষের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা নগরীর অন্যান্য রেস্টুরেন্টগুলোর জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুপম দাস অনুপের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত রেস্টুরেন্টটির রান্নাঘরে প্রবেশ করে হতবাক হয়ে যায়। পরিদর্শনে দেখা যায়, রান্নাঘরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। ডাস্টবিনগুলো খোলা অবস্থায় রাখা ছিল, যা মশা-মাছির উপদ্রব এবং জীবাণু ছড়ানোর অন্যতম কারণ। মেঝে ছিল স্যাঁতসেঁতে এবং একাধিক স্থানে টাইলস ভাঙা ছিল, যা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করছিল। এছাড়া, খাবার ধোয়ার বেসিনে নোংরা পানি জমে থাকতে দেখা যায়, যা খাদ্য সামগ্রী দূষিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

কেবল রান্নাঘরের অপরিচ্ছন্নতাই নয়, রেস্টুরেন্টটির খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতিতেও গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ে। ফ্রিজের ভেতরে রাখা মেরিনেটেড চিকেন, ভাজা মাছ-মাংস, দই, বোরহানি এবং বিভিন্ন ধরনের মসলার কনটেইনারগুলোতে কোনো সঠিক লেবেল ছিল না। এর ফলে কোন খাবার কখন প্রস্তুত করা হয়েছে বা কতদিন ধরে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। লেবেলিংয়ের এই অনুপস্থিতি খাদ্যদ্রব্যের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে এবং ভোক্তার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে, কারণ বাসি বা পচা খাবার পরিবেশিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং খাদ্য সংরক্ষণের ত্রুটি ছাড়াও, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের তলবে রেস্টুরেন্ট নিবন্ধন সনদ, হালনাগাদ ফায়ার লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ, পানি পরীক্ষার সনদ এবং পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উপস্থাপন করতে পারেনি জিংলিং কর্তৃপক্ষ। এই লাইসেন্স ও সনদগুলো একটি রেস্টুরেন্টের নিরাপদ ও বৈধ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে ফায়ার লাইসেন্স অগ্নি দুর্ঘটনা থেকে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ, আর কর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ খাদ্যবাহিত রোগ ছড়ানো প্রতিরোধে অত্যাবশ্যক।

উপরে উল্লিখিত সকল অনিয়ম ও ত্রুটির বিষয়ে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে তাদের দোষ স্বীকার করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর বিধান অনুযায়ী জিংলিং রেস্টুরেন্টকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে। এই ধরনের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, যাতে কোনো রেস্টুরেন্টই খাদ্য নিরাপত্তার মানদণ্ড লঙ্ঘন করে পার পেয়ে যেতে না পারে।

রাজধানীর মতো জনবহুল শহরে যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাবার গ্রহণ করে, সেখানে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে, তেমনি অন্যদিকে খাদ্যবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটাতে পারে। এই ধরনের অভিযানগুলো কেবল জরিমানা আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি রেস্টুরেন্ট মালিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মাবলী কঠোরভাবে পালনে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, পরিদর্শন এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে খাদ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে। জিংলিং রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে গৃহীত এই পদক্ষেপ তারই একটি অংশ, যা প্রমাণ করে যে খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ