সোমবার, 14 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
সিনেমা 🇧🇩 বাংলা

বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্যাকেজ প্রিভিউ কমিটি পুনর্গঠন: সম্প্রচার মান নিশ্চিতকরণে নতুন পদক্ষেপ

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত প্যাকেজ অনুষ্ঠান যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত ‘প্যাকেজ প্রিভিউ কমিটি’ পুনর্গঠন করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিনকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কমিটি সম্প্রচারযোগ্য অনুষ্ঠানের মান নিশ্চিত করবে।

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্যাকেজ প্রিভিউ কমিটি পুনর্গঠন: সম্প্রচার মান নিশ্চিতকরণে নতুন পদক্ষেপ

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানের মান ও বিষয়বস্তু যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত করতে বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত প্যাকেজ অনুষ্ঠান প্রচারের পূর্বে নিরীক্ষার জন্য গঠিত ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন প্যাকেজ প্রিভিউ কমিটি’ পুনর্গঠন করা হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর, বুধবার, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের টিভি-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা দেশের প্রধান সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান প্রদর্শনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পুনর্গঠন বিটিভির অনুষ্ঠানিক গুণগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পূর্ববর্তী কমিটিটি ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর গঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর এর কাঠামোতে পরিবর্তন এনে নতুন করে ১৫ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই পুনর্গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু, শৈল্পিক মান এবং সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা নিরূপণে আরও গতিশীলতা আনা। বিটিভি কর্তৃপক্ষ মনে করছে, আধুনিক রুচি ও দর্শকদের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মানসম্মত অনুষ্ঠান প্রচারে নতুন কমিটি আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের বর্তমান মহাপরিচালক কাজী জেসিনকে। তার নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুপরিচিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। কমিটির সদস্য সচিবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন বিটিভির পরিচালক (অনুষ্ঠান ও পরিকল্পনা)। এই নেতৃত্ব কাঠামো বিটিভির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও নতুনত্বের সমন্বয়ে একটি কার্যকরী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (টিভি-২), যা সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করবে। সংস্কৃতি অঙ্গন থেকে সারমিনা বিনতে আমিন, অভিনেতা শহীদ শরীফ খান, নৃত্যশিল্পী ও নৃত্য পরিচালক ফারহানা চৌধুরী বেবী, অভিনেতা শহীদ আলী, নির্মাতা, অভিনেতা ও প্রযোজক খালেদ আহমেদ সোহেলিন, অভিনেতা এম সালাম মুনশি, নাট্যকার, পরিচালক ও প্রযোজক কাজী মো. খলিলুর রহমান, গণমাধ্যমকর্মী কামরুল হাসান দর্পণ, সংস্কৃতিকর্মী খালেদা এনাম মুনা, অভিনেতা ও নির্মাতা তাহরিন, অভিনেত্রী ও নির্মাতা জিয়াসমিন আজহার জাহান এবং নির্মাতা আদনান আজাদ। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ সদস্য তালিকা অনুষ্ঠানের গুণগত মান ও সমাজের বিভিন্ন দিকের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

প্রজ্ঞাপনে কমিটির মূল দায়িত্ব ও কার্যপরিধি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বেসরকারিভাবে নির্মিত যে সকল অনুষ্ঠান বিটিভিতে প্রচারের জন্য বিবেচিত হবে, সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করাই কমিটির প্রধান কাজ। কমিটি প্রতিটি অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু, নির্মাণশৈলী, সামাজিক বার্তা এবং দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিরূপণ করে প্রচারের উপযোগীতার বিষয়ে সুপারিশ করবে। এর মাধ্যমে বিটিভি কেবল বিনোদন নয়, শিক্ষামূলক ও তথ্যবহুল অনুষ্ঠান প্রচারেও সক্ষম হবে।

কমিটির কার্যপ্রণালীতে স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়মাবলী প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির যেকোনো সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য ন্যূনতম আটজন সদস্যের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, যা কোরাম হিসেবে বিবেচিত হবে। বিটিভির প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কমিটির সভা নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং মহাপরিচালকের অনুপস্থিতিতে তার মনোনীত উপযুক্ত প্রতিনিধি সভায় সভাপতিত্ব করার ক্ষমতা রাখবেন। এই নিয়মাবলী কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বৈধতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে।

কমিটির সদস্যদের জন্য নৈতিকতার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে কঠোরভাবে বলা হয়েছে যে, সরকারি উদ্যোগে বিটিভির জন্য কোনো অনুষ্ঠান নির্মাণে কমিটির কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারবেন না। তবে, বিটিভির নিজস্ব কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বা সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে কমিটির সভাপতির পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। এই ধারাটি স্বার্থের সংঘাত এড়াতে এবং কমিটির নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

এছাড়াও, কমিটির কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবনা দিতে পারবেন। এটি কমিটির কার্যকারিতা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং প্রয়োজনে নতুন দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করার সুযোগ দেবে। এই পুনর্গঠিত কমিটি বিটিভির সম্প্রচার কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে এবং দর্শকদের জন্য আরও মানসম্মত ও রুচিশীল অনুষ্ঠান উপহার দিতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ