সোমবার, 14 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
সিনেমা 🇧🇩 বাংলা

শরৎচন্দ্র হয়ে চমকে দিলেন টোটা: সৃজিতের ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ সিনেমার টিজার প্রকাশ

বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-এর টিজার প্রকাশিত হয়েছে, যা দুর্গাপূজায় মুক্তি পাবে। সৃজিত মুখার্জির পরিচালনায় টোটা রায়চৌধুরী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। এই ছবিতে সাহিত্য, রাজনীতি ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যাবে।

শেয়ার করুন:
শরৎচন্দ্র হয়ে চমকে দিলেন টোটা: সৃজিতের ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ সিনেমার টিজার প্রকাশ

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে আবারও নতুন ইতিহাস রচনা করতে চলেছেন পরিচালক সৃজিত মুখার্জি। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-এর টিজার, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এই ছবিতে কিংবদন্তি সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকায় অভিনয় করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরী। দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে মুক্তি পেতে চলা এই সিনেমাটি বাংলা সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়কে বড় পর্দায় তুলে ধরবে। টিজারের ঝলকে উঠে এসেছে এমন এক সময়কাল, যেখানে সাহিত্য, রাজনীতি, সাম্রাজ্যবাদ এবং স্বাধীনতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এক অভিন্ন সূত্রে বাঁধা পড়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে গভীর উদ্দীপনা জাগিয়েছে।

পরিচালক সৃজিত মুখার্জি এই সিনেমা প্রসঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে বলেন, তাঁর কাছে এটি নিছকই একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং এক চিরন্তন আখ্যান যেখানে ‘কলম’ হলো এক দুর্বল কিন্তু শক্তিশালী প্রতিপক্ষ এবং এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে অত্যাচারী ‘তলোয়ার’। তিনি আরও যোগ করেন, এই চলচ্চিত্র বাস্তব ও সাহিত্যের প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই উত্তাল সময়কে তুলে ধরবে, যখন শব্দ শুধু সাহিত্য ছিল না, ছিল প্রতিবাদের ভাষা। সৃজিতের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ছবিটি শুধুমাত্র বিনোদন নয়, বরং ইতিহাস ও সাহিত্যের এক গভীর বিশ্লেষণাত্মক উপস্থাপন হতে চলেছে।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পথের দাবী’-র শতবর্ষ পূর্তির প্রাক্কালে ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ফিরে দেখছে বাংলা সাহিত্যের সেই গৌরবময় অধ্যায়কে, যখন সাহিত্যিক সৃষ্টি শুধুমাত্র মনোরঞ্জনের মাধ্যম ছিল না, হয়ে উঠেছিল দ্রোহের প্রতীক। ‘পথের দাবী’ প্রকাশের পর ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপট এবার বড় পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠবে। প্রায় একশ বছর পর সেই ইতিহাস, সেই দ্রোহের কালকে সৃজিত মুখার্জি তাঁর নিজস্ব শৈলীতে ফিরিয়ে আনছেন, যা বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাসের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধাবোধের পরিচায়ক।

সিনেমার টিজারে টোটা রায়চৌধুরীকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রূপে দেখে দর্শকরা বিমোহিত হয়েছেন। তাঁর পাকা চুল, ভাঙা চোয়াল এবং একমনে লেখালেখিতে মগ্ন থাকার দৃশ্যটি চরিত্রের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সংযোগের ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, আবির চট্টোপাধ্যায়কে দেখা গেছে বন্দুক হাতে বিপ্লবী ‘সব্যসাচী’র চরিত্রে, যা তাঁর দৃঢ় ও সাহসী ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলেছে। মিমি চক্রবর্তীর অভিনীত চরিত্রটিও গল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। এই তারকাবহুল চলচ্চিত্রে আরও অভিনয় করেছেন দিব্যাণী মণ্ডল, ঋক চট্টোপাধ্যায়, দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায়, সঞ্জয় নাগ, কৌশানী মুখোপাধ্যায় ও কাঞ্চন মল্লিক সহ একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পী, যা সিনেমার আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এই ছবির হাত ধরেই পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় সংগীত পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছেন, যা তাঁর বহুমুখী প্রতিভার এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে। ছবির সংগীত ও সাউন্ডট্র্যাকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি নিজেই, যা দর্শকদের জন্য এক বাড়তি চমক। আবহসংগীতের দায়িত্বে রয়েছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, যিনি তাঁর নিপুণ কাজে ছবির মেজাজকে আরও গভীরতা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল দিক হলো মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুণ্ডুর অনবদ্য কাজ। তাঁর মেকআপের জাদুতেই ঐতিহাসিক চরিত্র এবং সাহিত্যের পরিচিত চরিত্রগুলো পর্দায় অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটে উঠেছে, যা দর্শকদের মুগ্ধ করবে নিঃসন্দেহে।

‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ শুধুমাত্র শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবন বা তাঁর সৃষ্টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই ছবিতে তৎকালীন আরও বহু ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে দেখা যাবে, যাঁরা বাংলার ইতিহাস ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রকে ঘিরে এই চলচ্চিত্রের কাহিনি এগিয়ে যাবে। এই চরিত্রগুলোর মাধ্যমে সেই সময়ের সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এক নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হবে, যা দর্শকদের এক ভিন্ন মাত্রার অভিজ্ঞতা দেবে।

সব মিলিয়ে, সৃজিত মুখার্জির ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ছবিটি কেবল একটি বিনোদনমূলক চলচ্চিত্র নয়, এটি বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের এক জীবন্ত দলিল হতে চলেছে। টোটা রায়চৌধুরী সহ অন্যান্য অভিনেতাদের অসামান্য অভিনয়, সৃজিতের গভীর নির্দেশনা এবং ছবির কারিগরি দিকগুলো এটিকে এক অসাধারণ সৃষ্টিতে পরিণত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুর্গাপূজার এই বিশেষ সময়ে ছবিটি দর্শকদের মন জয় করে নেবে এবং বাংলা চলচ্চিত্রকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ