বলিউডে চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমা হয়ে উঠেছে হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত 'ককটেল ২'। জনপ্রিয় 'ককটেল' ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে মুক্তির আগেই ছবিটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে নির্মিত গল্প, আকর্ষণীয় গান এবং শহীদ কাপুর, কৃতি শ্যানন ও রাশমিকা মান্দানার নতুন জুটির কারণে ছবিটি নিয়ে আলোচনা চলছিলই। এবার সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি)-এর সিদ্ধান্ত। বোর্ড ছবিটিকে 'এ' (কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য) সার্টিফিকেট দিয়েছে, অর্থাৎ ১৮ বছরের কম বয়সীরা ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দেখতে পারবে না।
আড়াই ঘণ্টার এই রোমান্টিক ড্রামাটি আগামী ১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে। সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়ার সঙ্গে ছবিটির দৈর্ঘ্যও প্রকাশিত হয়েছে। জানা গেছে, ছবিটির রানটাইম ১৫০ মিনিট, অর্থাৎ ঠিক ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এর আগে ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম 'ককটেল'-এর দৈর্ঘ্য ছিল ১৪৬ মিনিট। ফলে নতুন ছবিটি আগেরটির চেয়ে চার মিনিট বেশি দীর্ঘ। এই 'এ' সার্টিফিকেট প্রাপ্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ছবির বিষয়বস্তু, সংলাপ এবং সম্পর্কের জটিলতা আগের চেয়ে আরও বেশি পরিণত ও প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য উপযোগী করে তোলা হয়েছে।
'ককটেল ২'-এর সবচেয়ে বড় চমকগুলোর মধ্যে একটি হলো অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের ক্যারিয়ার রেকর্ড। ২০১৪ সালে বলিউডে অভিষেকের পর এই প্রথম তাঁর কোনো ছবি 'এ' সার্টিফিকেট পেল। তাঁর অভিনীত 'হিরোপন্তি', 'মিমি', 'তেরি বাতোঁ মে অ্যায়সা উলঝা জিয়া' কিংবা 'দো পত্তি'—কোনো ছবিই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত ছিল না। দীর্ঘ ১২ বছরের ক্যারিয়ারে 'ককটেল ২' কৃতির জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে, যা তাঁর অভিনয় জীবনের একটি নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সমালোচকরা।
অন্যদিকে, রাশমিকা মান্দানার ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় 'এ' সার্টিফিকেট পাওয়া হিন্দি ছবি। এর আগে ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া রণবীর কাপুর অভিনীত 'অ্যানিমেল' ছবিটিও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত ছিল। 'অ্যানিমেল'-এ তাঁর চরিত্র যেমন ব্যাপক আলোচনায় এসেছিল, তেমনি 'ককটেল ২'-এও তিনি ছবির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দর্শকদের প্রত্যাশা বাড়িয়েছেন। দুই ছবিতে ভিন্ন ধরনের প্রাপ্তবয়স্ক চরিত্রে অভিনয় করে রাশমিকা নিজের বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দিচ্ছেন।
অভিনেতা শহীদ কাপুরের ক্যারিয়ারে এটি পঞ্চম 'এ' সার্টিফিকেট পাওয়া ছবি। এর আগে তিনি অভিনয় করেছেন 'কামিনে' (২০০৯), 'উড়তা পাঞ্জাব' (২০১৬), 'কবির সিং' (২০১৯) এবং সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া 'ও'রোমিও' (২০২৬) ছবিতে। মজার বিষয় হলো, 'ও'রোমিও' ছিল শহীদের সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া ছবি। ফলে এই প্রথম তাঁর ক্যারিয়ারে টানা দুটি ছবি 'এ' সার্টিফিকেট পেল, যা তাঁর সাম্প্রতিক চরিত্র নির্বাচনের সাহসী পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।
১৪ জুন মধ্যরাতেই ছবিটির অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে এবং দর্শকদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। ট্রেলার, গান এবং তারকাদের প্রচারণা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রযোজক দিনেশ বিজনের ম্যাডক ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত এই ছবিটির সহপ্রযোজক হিসেবে আছেন লাভ রঞ্জন, প্রমিতা আর. বিজন ও অঙ্কুর গার্গ। একটি সফল ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে 'ককটেল ২' মুক্তির আগেই বাণিজ্যিক সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম 'ককটেল' ছিল সে সময়ের অন্যতম সফল রোমান্টিক ড্রামা, যেখানে অভিনয় করেছিলেন সাইফ আলী খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়না পেন্টি। বন্ধুত্ব, প্রেম, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আধুনিক শহুরে জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত সেই ছবি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই ছবিটিও পরিচালনা করেছিলেন হোমি আদাজানিয়া। তবে প্রথম ছবিটি পেয়েছিল 'ইউ/এ' সার্টিফিকেট, যেখানে 'ককটেল ২' সরাসরি 'এ' সার্টিফিকেট পেল, যা ১৪ বছর পর আসা এই নতুন ছবির গল্পে সম্পর্ক, আবেগ ও প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তুর মাত্রা আরও বেশি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
তবে এটি সরাসরি আগের গল্পের ধারাবাহিকতা নয়; বরং একই আবেগ ও সম্পর্কের জটিলতাকে নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা। 'ককটেল ২'-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর তারকাবহুল কাস্ট। ছবিতে দেখা যাবে শহীদ কাপুর, কৃতি শ্যানন ও রাশমিকা মান্দানাকে। পরিচালনায় রয়েছেন আগের ছবির নির্মাতা হোমি আদাজানিয়া। প্রযোজক হিসেবে আছেন দিনেশ বিজন আর চিত্রনাট্যে যুক্ত হয়েছেন লাভ রঞ্জন ও তরুণ জৈন। প্রথম পোস্টার ও ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই বোঝা গেছে, এ ছবির কেন্দ্রেও রয়েছে এক জটিল প্রেমের সমীকরণ। বন্ধুত্ব, আকর্ষণ, ঈর্ষা, ভুল–বোঝাবুঝি ও আবেগের সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে আধুনিক সম্পর্কের এক নতুন রূপ তুলে ধরতে চাইছেন নির্মাতারা।
মূল 'ককটেল' মুক্তির সময় বলিউডে রোমান্টিক কমেডির অভাব ছিল না, কিন্তু সেই ছবিটি আলাদা হয়ে উঠেছিল ভেরোনিকা চরিত্রের জন্য। দীপিকা পাড়ুকোনের অভিনীত চরিত্রটি ছিল স্বাধীনচেতা, সাহসী ও আবেগপ্রবণ, যা তখনকার মূলধারার বলিউডে খুব একটা দেখা যেত না। 'ককটেল ২' সেই ঐতিহ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে আধুনিক সম্পর্কের গভীরে প্রবেশ করে দর্শকদের এক নতুন ও পরিণত অভিজ্ঞতা দিতে প্রস্তুত, যা এটিকে বলিউডের অন্যতম আলোচিত মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা করে তুলেছে।