বৃহস্পতিবার, 9 জুলাই 2026
⚠ ব্রেকিং
সিনেমা 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ, মৃত্যুর পর মরদেহ এফডিসিতে না নেওয়ার আকুতি রোজিনার

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বরেণ্য অভিনেত্রী রোজিনা। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আকুতি জানিয়ে বলেছেন, মৃত্যুর পর যেন তার মরদেহ এফডিসিতে নেওয়া না হয়, কারণ হিসেবে তিনি চলচ্চিত্র অঙ্গনে মূল্যবোধের অবক্ষয়কে দায়ী করেছেন।

শেয়ার করুন:
চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ, মৃত্যুর পর মরদেহ এফডিসিতে না নেওয়ার আকুতি রোজিনার

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের বরেণ্য অভিনেত্রী রোজিনা সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ঘিরে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই অসন্তোষের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে আকুতি জানিয়ে বলেছেন, মৃত্যুর পর যেন তার মরদেহ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে নেওয়া না হয়। তার এই বিস্ফোরক মন্তব্য চলচ্চিত্র পাড়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

রবিবার (৫ জুলাই, ২০২৬) রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিনেত্রী রোজিনা তার এই ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেন। দীর্ঘকাল ধরে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতৃত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকা রোজিনা এবারের নির্বাচনেও সহসভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন। নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং ফলাফল ঘোষণার পুরো পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ ছিল, পুরো প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু পরিবেশের অভাব ছিল এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে নানা ধরনের অসংগতি প্রত্যক্ষ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রোজিনা তার মর্মস্পর্শী বক্তব্যে বলেন, "এফডিসি এখন আর আগের মতো নেই। এখানে সম্মান, মূল্যবোধ—একে একে সবকিছুই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জীবনে কোনোদিন আমি শিল্পী সমিতিতে যাব কি না জানি না। তবে মৃত্যুর পর আমার লাশ যেন এফডিসিতে নেওয়া না হয়।" তার এই কথাগুলো কেবল ব্যক্তিগত হতাশার প্রতিফলন নয়, বরং চলচ্চিত্র শিল্পের গভীরে প্রোথিত কিছু সমস্যার প্রতি ইঙ্গিত দেয়। বহু বছর ধরে এই অঙ্গনে কাজ করা একজন প্রবীণ শিল্পীর মুখ থেকে এমন কথা আসা নিঃসন্দেহে গুরুতর।

নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রোজিনা আরও বলেন, "এখনকার অনেক মানুষের মধ্যে শিল্পীদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাবোধ নেই। আমাকে চক্রান্ত করে হারানো হয়েছে বলেই আমি এমন কথা বলছি না। বিষয়টি আমি অনেক আগেই ভেবে রেখেছিলাম। এমনকি, এ বিষয়ে আমার পরিবারের সঙ্গেও আমি বিস্তারিত কথা বলেছি।" তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তার ক্ষোভ কেবল নির্বাচনী পরাজয়কে কেন্দ্র করে নয়, বরং চলচ্চিত্র অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় থেকেই উৎসারিত। এটি কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং গভীর চিন্তাভাবনার ফল।

নন্দিত এই অভিনেত্রী আরও মন্তব্য করেন যে, এবারের নির্বাচনে তার পরাজয়ের চেয়েও তাকে বেশি হতাশ করেছে চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান পরিবেশ এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়। তার মতে, একটি সুস্থ ও সম্মানজনক শিল্প পরিবেশ বজায় রাখার জন্য যে ন্যূনতম মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকা প্রয়োজন, তা আজ অনেকটাই অনুপস্থিত। এই পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে শিল্পের ভবিষ্যৎ এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য একটি সুস্থ প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে বাধা দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

রোজিনার এই সাহসী এবং আবেগপূর্ণ বক্তব্য চলচ্চিত্র শিল্পের ভেতরের অনেক অপ্রিয় সত্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। তার অভিযোগ, সুষ্ঠু নির্বাচনের অভাব এবং শিল্পের অবক্ষয় কেবল একটি পদের জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়, এটি সামগ্রিকভাবে শিল্পের মর্যাদা ও ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। একজন বর্ষীয়ান শিল্পীর এমন আকুতি নিঃসন্দেহে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য একটি চিন্তার খোরাক যোগাবে এবং এই শিল্পের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একদিকে যেমন নতুন প্রযুক্তির আগমন এবং দর্শকদের রুচির পরিবর্তন ঘটছে, তেমনি অন্যদিকে শিল্পীদের মধ্যে বিভাজন এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রায়শই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। রোজিনার মতো একজন অভিজ্ঞ শিল্পীর এমন বিস্ফোরক মন্তব্য নিঃসন্দেহে এই শিল্পের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার আহ্বান জানাল।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ