বুধবার, 26 আগস্ট 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

বিদ্যুৎখাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধে সরকারের চ্যালেঞ্জ: নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর

বিদ্যুৎ খাতের প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ বর্তমান সরকারের জন্য এক বিরাট চাপ, জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এই বিপুল বোঝা সামলে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

শেয়ার করুন:
বিদ্যুৎখাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধে সরকারের চ্যালেঞ্জ: নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর

বগুড়া, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ – বিদ্যুৎখাতে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর রেখে যাওয়া প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশাল বকেয়া পরিশোধ বর্তমান সরকারের জন্য এক বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আজ বগুড়ার শিবগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই বিপুল আর্থিক বোঝা সত্ত্বেও সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিধি বাড়াতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুতের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিগত স্বৈরাচারী ও অন্তর্বর্তী সরকারগুলো দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করেছিল, কিন্তু সেই ক্রয়ের মূল্য সঠিক সময়ে পরিশোধ করেনি। অর্থ ও বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এই অপরিশোধিত বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিশাল দায়ভার বর্তমান জনগণের সরকারের ওপর এসে পড়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। এই বকেয়া পরিশোধের গুরুদায়িত্ব বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের সরকার হিসেবে তারা এই বিপুল বকেয়া মেটাতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে, দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহার নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শুধু বকেয়া পরিশোধই নয়, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পানিবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে সকল প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এর আওতায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, ডাকবাংলো, অডিটোরিয়াম এবং সিটি করপোরেশনের ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ 'নেট মিটারিং' পদ্ধতির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে এবং এর সমন্বয় সাধন করা হবে, যা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হলে সরকারের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। এটি একদিকে যেমন বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ কমাবে, তেমনি পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে কার্বন নিঃসরণ কমাতেও সহায়ক হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুরক্ষিত জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

এদিন শিবগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মেধার প্রশংসা করেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। এই ধরনের অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে এবং তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে অনুপ্রাণিত করে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল মেধাবী শিক্ষার্থীদের তাদের শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য স্বীকৃতি জানানো।

অনুষ্ঠানে একটি মানবিক উদ্যোগেরও ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী মাহফুজের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাহফুজের উচ্চশিক্ষার সম্পূর্ণ খরচ বহন এবং তাকে কৃত্রিম পা লাগিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই মানবিক সহায়তা মাহফুজের মতো শিক্ষার্থীদের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করবে এবং তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মোট ২৩৩ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যত শিক্ষাজীবনে আরও ভালো করার জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন ব্যক্তির উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ