মঙ্গলবার, 25 আগস্ট 2026
⚠ ব্রেকিং
রাজনীতি 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

শহীদ মিনারে সমাবেশ বন্ধ: এনসিপি'র তীব্র প্রতিবাদ, 'নগ্ন আঘাত' আখ্যা

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক সমাবেশ করতে না দেওয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা এটিকে স্বাধীন রাজনৈতিক চর্চা ও সংবিধান স্বীকৃত সভা-সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর 'নগ্ন আঘাত' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

শেয়ার করুন:
শহীদ মিনারে সমাবেশ বন্ধ: এনসিপি'র তীব্র প্রতিবাদ, 'নগ্ন আঘাত' আখ্যা

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের একটি পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক সমাবেশ করতে না দেওয়ার ঘটনাকে স্বাধীন রাজনৈতিক চর্চা এবং সংবিধান স্বীকৃত সভা-সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর 'নগ্ন আঘাত' হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে দলটির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক পরিসরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সোমবার, ২৪ আগস্ট, এক যৌথ বিবৃতিতে এনসিপি'র আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব জোর দিয়ে বলেছেন যে, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা গভীর পরিতাপের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান নির্বাচিত সরকারও বিগত পরাজিত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী আমলের মতো বিরোধী বা ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার পুরনো চর্চা অব্যাহত রাখছে, যা জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।

এনসিপি নেতারা আরও বলেন, দেশের জনগণ কোনো স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি দেখতে রক্ত দেয়নি। রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার একটি রাজনৈতিক দলকে সভা-সমাবেশ করতে না দেওয়া সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তারা মনে করেন, কোনো যুক্তি বা অজুহাতেই একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকার হরণ করা সমর্থনযোগ্য হতে পারে না, কারণ এটি মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের পথ রুদ্ধ করার এই অগণতান্ত্রিক মানসিকতা প্রমাণ করে যে শাসনব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন এখনো অধরা। সরকার যদি জনআকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়ে দমন-পীড়নের পুরোনো পথ বেছে নেয়, তবে রাষ্ট্র ও সমাজের গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া আবারও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অনতিবিলম্বে সরকারকে এহেন স্বৈরাচারী ও অগণতান্ত্রিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে, সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক সভা, সমাবেশ ও কর্মসূচি পালনের সাংবিধানিক অধিকার অনতিবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে প্রশাসন ও পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

বিবৃতিতে এনসিপি আরও বলেছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে ব্যবহার না করে রাষ্ট্রের প্রকৃত নিরাপত্তা ও সেবায় নিয়োজিত রাখতে হবে। তারা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাজপথে জনগণের বাক-স্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকার হরণ করার যেকোনো অপচেষ্টা এনসিপি দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করবে এবং কোনো ধরনের দমন-পীড়ন মেনে নেওয়া হবে না।

দলটির নেতারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, অবিলম্বে সব দলের জন্য সমান গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত না করা হলে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে সারাদেশে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি। তাদের এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যেখানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নগুলো আবারও সামনে চলে আসছে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ