২২ আগস্ট ২০২৬, শনিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁও মডেল থানা আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশি সেবার মান সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা এবং তা উন্নত করার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা। মন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই অপ্রত্যাশিত পরিদর্শন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিদর্শনের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। পূর্বঘোষণা ছাড়া এই ধরনের পরিদর্শন সাধারণত মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতি মূল্যায়নে সহায়ক হয়, যেখানে পূর্ব প্রস্তুতির কোনো সুযোগ থাকে না। মন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, থানার অবকাঠামোগত অবস্থা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণ জনগণ কীভাবে পুলিশি সেবা পাচ্ছেন, তার সার্বিক মান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এই পদক্ষেপ পুলিশের অভ্যন্তরে স্বচ্ছতা ও জনমুখী পরিষেবা নিশ্চিত করার একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেয়।
পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থানার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ ও স্থান ঘুরে দেখেন। তিনি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। মন্ত্রীর পরিদর্শনের তালিকায় ছিল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কক্ষ, ডিউটি অফিসারের কক্ষ, তদন্ত কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষ, হাজতখানা এবং পুলিশ সদস্যদের আবাসন ব্যারাক ও ডাইনিং স্পেস (মেস)। প্রতিটি স্থানেই তিনি খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেন, যা থানার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ধারণা পেতে সাহায্য করে।
পুলিশ সদস্যদের আবাসন ব্যারাক এবং ডাইনিং স্পেস পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণের দিকে বিশেষ নজর দেন। তিনি সেখানে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যদের আবাসন ব্যবস্থার মান, মেসের খাবারের সার্বিক গুণগত মান এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন। এছাড়াও, তিনি থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের রাত্রিকালীন দায়িত্ব, শিফটিং ডিউটির সুনির্দিষ্ট সময়সূচী এবং তাদের কাজের পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পুলিশ সদস্যদের সুস্থ ও ভালো কর্মপরিবেশ তাদের কাজের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, এই বিষয়টি মন্ত্রী গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।
পরিদর্শনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল তেজগাঁও থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি কথোপকথন। তিনি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) বা বিভিন্ন অভিযোগ জমা দিতে আসা ভুক্তভোগীদের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এই সময় তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন যেন নাগরিকদের অভিযোগগুলো দ্রুততম সময়ে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্পত্তি করা হয়। এই সরাসরি জনসম্পৃক্ততা পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জনগণের সুরক্ষা ও সেবাকেই পুলিশের মূল কাজ হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “পুলিশের মূল কাজই হলো জনগণের সুরক্ষা ও সেবা দেওয়া। থানাকে প্রত্যেক মানুষের আস্থা ও ভরসাস্থল হতে হবে। নাগরিকেরা যেন নির্ভয়ে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে থানায় আসতে পারেন এবং কোনো মাধ্যম ছাড়া নিজের সমস্যা সরাসরি জানাতে পারেন—আমরা সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।” মন্ত্রীর এই বক্তব্য জনগণের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনমুখী পরিষেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক। এই ধরনের পরিদর্শন কেবল পুলিশ স্টেশনের কার্যকারিতাই মূল্যায়ন করে না, বরং পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি এবং জনসাধারণের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা তৈরিতেও অবদান রাখে। আশা করা যায়, এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য থানাগুলোতেও অনুরূপ পর্যবেক্ষণ ও সেবার মান উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, যা একটি নিরাপদ ও সুসংগঠিত সমাজ গঠনে অপরিহার্য।