বাংলাদেশের বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) এবং ইনফরমেশন টেকনোলজি এনেবলড সার্ভিসেস (আইটিইএস) খাতের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক এআই ইনোভেশন অ্যান্ড লিডারশিপ কনসোর্টিয়াম (আইএআইআইএলসি) প্রেস্টিজ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার বাক্কোর দূরদর্শী নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী কার্যক্রম এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুদূরপ্রসারী অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য এটি এক বিশাল অর্জন, যা দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের যাত্রায় নতুন প্রেরণা যোগাবে।
বাক্কোকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে নেতৃত্ব, উদ্ভাবন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান, অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারে তাদের অসামান্য সাফল্যের জন্য। বিশেষ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত উদ্ভাবনে বাক্কোর সক্রিয় ভূমিকা এবং এই ক্ষেত্রে তাদের নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এই পুরস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিপিও শিল্প বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ পেলো।
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে এই পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাক্কোর সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আলিমের হাতে এই প্রেস্টিজ অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন। বাক্কোর পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আনন্দের ঢেউ তুলেছে। এই আয়োজনে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিল্প বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, উদ্ভাবনের প্রসারে, সুশাসন সুদৃঢ়করণে, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণে, সাইবার নিরাপত্তা উদ্যোগে সহায়তায়, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখায় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বাক্কোর প্রমাণিত সাফল্য ও কাঠামোগত উৎকর্ষতাই এই পুরস্কারের মূল ভিত্তি। তাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং কৌশলগত পরিকল্পনা বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এই সম্মাননা দেশের বিপিও খাতের সক্ষমতা এবং সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও), ইনফরমেশন টেকনোলজি এনেবলড সার্ভিসেস (আইটিইএস) এবং সামগ্রিক ডিজিটাল সেবা শিল্পের বিকাশে বাক্কোর অব্যাহত প্রচেষ্টা ও অঙ্গীকারের এক সুস্পষ্ট প্রতিফলন। নীতি-সমর্থন প্রদান, শিল্প উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন, সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচি বাস্তবায়ন, তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং কৌশলগত আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাক্কো বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক আউটসোর্সিং গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই পুরস্কার তাদের সেই দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
পুরস্কার গ্রহণের পর বাক্কোর সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আলিম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পুরো বাংলাদেশ বিপিও ও আইটিইএস শিল্পের জন্য নিঃসন্দেহে একটি গর্বের অর্জন। তিনি এই পুরস্কার বাক্কোর সকল সদস্য, শিল্প অংশীদার, সরকারি অংশীজন এবং সেই হাজার হাজার নিবেদিতপ্রাণ পেশাদার ব্যক্তিকে উৎসর্গ করেন, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠা এই খাতকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে নিয়ে চলেছে। ফয়সল আলিম দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের জন্য একটি বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক, উদ্ভাবনী ও টেকসই ডিজিটাল সেবা শিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিতে বাক্কো সর্বদা অবিচল থাকবে।
বাক্কো এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতির জন্য আন্তর্জাতিক এআই ইনোভেশন অ্যান্ড লিডারশিপ কনসোর্টিয়াম এবং ইউনিভার্সাল হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছে। একইসঙ্গে, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় আন্তরিক সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকার, উন্নয়ন অংশীদার, সদস্য সংগঠন এবং সকল শিল্প অংশীজনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে বলে বাক্কো আশাবাদী।
এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বৈশ্বিক মানচিত্রে আরও সুদৃঢ় অবস্থানে স্থাপন করবে। বাক্কোর এই অর্জন শুধু তাদের নিজস্ব সাফল্য নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল রূপান্তর এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন পূরণের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হবে এবং বিশ্বব্যাপী নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।