শুক্রবার, 10 জুলাই 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

আখাউড়ায় চাঞ্চল্য: শিক্ষকের স্বামীর অ্যাকাউন্টে শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা, পরিবার ছিল অন্ধকারে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা তার পরিবারের অজান্তেই শ্রেণিশিক্ষকের স্বামীর মোবাইল নম্বরে জমা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আড়াই বছরে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা জমা হলেও শিক্ষার্থী পায়নি এক টাকাও। এ ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার করুন:
আখাউড়ায় চাঞ্চল্য: শিক্ষকের স্বামীর অ্যাকাউন্টে শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা, পরিবার ছিল অন্ধকারে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা তার পরিবারের অজান্তেই শ্রেণিশিক্ষকের স্বামীর মোবাইল নম্বরে ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। আখাউড়া উপজেলার রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর বিদ্যালয় ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকার স্বামী আংশিক টাকা ফেরত দিলেও বাকি অর্থের উৎস ও প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালে রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরশ মিয়া উপবৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীর পরিবারের মোবাইল নম্বর ব্যবহার না করে, তৎকালীন শ্রেণিশিক্ষক আয়েশা আক্তার তার স্বামী ইব্রাহিম খলিলের মোবাইল নম্বরটি উপবৃত্তির আবেদনপত্রে যুক্ত করেন বলে অভিযোগ। এরপর থেকে ছয় মাস অন্তর অন্তর সরকারের দেওয়া উপবৃত্তির অর্থ ওই নম্বরের ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে জমা হতে থাকে। একটি প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিগত আড়াই বছরে এভাবে মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা ওই নম্বরে জমা হয়েছিল।

ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত বৃহস্পতিবার, যখন বিদ্যালয়ের বর্তমান শ্রেণিশিক্ষক স্বীকৃতি রায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী পরশের অনিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে তার মা খুকি বেগমকে বিদ্যালয়ে ডেকে পাঠান। আলোচনার একপর্যায়ে স্বীকৃতি রায় খুকি বেগমকে জানান যে, পরশ নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলে তার উপবৃত্তি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ কথা শুনেই হতবাক হয়ে যান খুকি বেগম, কারণ তিনি স্পষ্ট জানান যে তার ছেলে কখনোই উপবৃত্তির কোনো টাকা পায়নি।

শিক্ষার্থীর মায়ের এই মন্তব্যের পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নথিপত্র যাচাই করে দেখতে পায় যে, উপবৃত্তির জন্য দেওয়া মোবাইল নম্বরটি পরশের পরিবারের কোনো সদস্যের নয়। পরবর্তীতে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, এটি শিক্ষিকা আয়েশা আক্তারের স্বামী ইব্রাহিম খলিলের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর। এই তথ্য জানার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌসুমী আক্তার অভিযুক্ত ইব্রাহিম খলিলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।

প্রাথমিকভাবে ইব্রাহিম খলিল প্রধান শিক্ষকের ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে অন্য একজন শিক্ষকের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয় এবং তিনি তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরশের মা খুকি বেগমও তার সঙ্গে কথা বলেন। দিনের শেষে, বিকেলের দিকে ইব্রাহিম খলিলের পক্ষ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে তিনি দাবি করেন, আড়াই বছরে উপবৃত্তির মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে এই ২ হাজার ৭০০ টাকাই তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল। বাকি টাকার বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

বর্তমান শ্রেণিশিক্ষক স্বীকৃতি রায় এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, পরশের উপবৃত্তি না পাওয়ার কথা শুনে তিনি বিস্মিত হন এবং দ্রুত নথি পরীক্ষা করে অন্য একটি মোবাইল নম্বর আবিষ্কার করেন। সেই নম্বরে যোগাযোগ করে ইব্রাহিম খলিলের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে অবহিত করেন। শিক্ষার্থী পরশের মা খুকি বেগম জানান, তিনি জানতেনই না যে তার ছেলে উপবৃত্তি পায়। টাকা ফেরত পাওয়ার পর তিনি বাকি টাকার বিষয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা বলতে বলেছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌসুমী আক্তার এই বিষয়ে বলেন, পূর্বে উপবৃত্তির আবেদনের ক্ষেত্রে যেকোনো মোবাইল নম্বর ব্যবহার করার সুযোগ ছিল, আর সেই সুযোগের অপব্যবহার করেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, ব্যবহৃত নম্বরটি তাদের সাবেক এক সহকর্মীর স্বামীর। ঘটনাটি সামনে আসার পর তিনি দ্রুত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিস্তারিত অবহিত করেছেন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষিকা আয়েশা আক্তার বর্তমানে অন্য একটি বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে কর্মরত আছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি প্রথমে নিজের পরিচয় অস্বীকার করেন এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করা থেকে বিরত থাকেন। একইভাবে, অভিযুক্ত ইব্রাহিম খলিলের সঙ্গেও বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি, পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়, যার ফলে তার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এই ঘটনা শিক্ষা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ