বৃহস্পতিবার, 9 জুলাই 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ১৭৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিম-কলা-রুটি বিতরণ বন্ধ: বিল বকেয়ার অভিযোগ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির আওতায় ডিম, কলা ও বনরুটি বিতরণ বন্ধ হয়ে গেছে। বিল বকেয়ার কারণে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান খাবার সরবরাহ স্থগিত করেছে বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ১৭৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিম-কলা-রুটি বিতরণ বন্ধ: বিল বকেয়ার অভিযোগ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলমান ফিডিং কর্মসূচির আওতায় ডিম, কলা ও বনরুটি বিতরণ আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ তুলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই খাবার সরবরাহ স্থগিত করায় উপজেলার ১৭৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন পুষ্টিকর এই খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই অপ্রত্যাশিত বিরতি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন পুষ্টির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুন থেকে গৌরীপুর উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বনরুটি, কলা ও সেদ্ধ ডিম বিতরণ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। যদিও ফিডিং কর্মসূচির আওতাধীন অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী যেমন, ইউএইচটি দুধ ও ফরটিফাইড বিস্কুট বিতরণ এখনও অব্যাহত আছে। সপ্তাহের সোমবার ইউএইচটি দুধ এবং বুধবার ফরটিফাইড বিস্কুট শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। তবে সপ্তাহের বাকি কার্যদিবসগুলোতে, যখন ডিম, কলা ও বনরুটি বিতরণের কথা ছিল, সেগুলোতে শিক্ষার্থীরা খাবার পাচ্ছে না। এই অবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি করেছে এবং প্রকল্পের সার্বিক কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই খাবার সামগ্রী সরবরাহ বন্ধের কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাদের বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় খাবার বিতরণ স্থগিত করেছে। গৌরীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা রুবায়াত এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিল বকেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা কর্মকর্তা গত ৭ জুলাই একটি চিঠির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালককে বিস্তারিত অবহিত করেছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা রুবায়াতের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে গৌরীপুর উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাবার বিতরণ বন্ধের বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিল পরিশোধ না হওয়ায় সরবরাহকারীরা খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতি জাতীয় পর্যায়ে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং এর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে বলে চিঠিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা বজায় থাকে, পড়ালেখায় মনোযোগ বাড়ে এবং ঝরে পড়ার হার কমে আসে। ডিম, কলা ও বনরুটির মতো পুষ্টিকর খাবার শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন ক্যালরি ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যখন এই ধরনের একটি মৌলিক পরিষেবা ব্যাহত হয়, তখন এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামগ্রিক ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর।

'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি' শুধু গৌরীপুরেই নয়, সারা দেশেই বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা দূর করা এবং বিদ্যালয়ের প্রতি তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরা, যারা অনেক সময় বাড়িতে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার পায় না, তাদের জন্য এই কর্মসূচি এক আশীর্বাদস্বরূপ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার শিশুদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তাই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়।

এই সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। সরবরাহকারীদের বকেয়া বিল দ্রুত পরিশোধ করে খাবার সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে অসংখ্য শিক্ষার্থী পুষ্টিহীনতার শিকার হতে পারে। এটি কেবল গৌরীপুর উপজেলার সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নির্দেশ করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন এমন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অর্থায়নে আর কোনো বিলম্ব বা জটিলতা না হয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে এই কর্মসূচির নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখা অপরিহার্য।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ