বৃহস্পতিবার, 9 জুলাই 2026
⚠ ব্রেকিং
জাতীয় 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তারামন বিবি হলে নবীন বরণ: নারী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব ও অধিকার সচেতনতায় জোর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর প্রতীক তারামন বিবি হলে ৫৪ ও ৫৫ তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের রাজনীতিবিমুখতা দূর করে নেতৃত্ব ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকরাও অংশ নেন।

শেয়ার করুন:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তারামন বিবি হলে নবীন বরণ: নারী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব ও অধিকার সচেতনতায় জোর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর প্রতীক তারামন বিবি হলে ৫৪ ও ৫৫ তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে, যার মূল লক্ষ্য ছিল নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব ও অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি করা। গত ৮ জুলাই, বুধবার রাতে হলের কমন রুমে তারামন বিবি হল শাখা ছাত্রদল এই নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কেবল নতুন শিক্ষার্থীদের বরণই নয়, বরং তাদেরকে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি কার্যকর ও ফলপ্রসূ সম্পর্ক গড়ে তোলারও প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি তাইয়্যেবা রাজিয়া মুসকান এই আয়োজনের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নারী শিক্ষার্থীরা প্রায়শই নিজেদের পড়াশোনা এবং হলকেন্দ্রিক জীবনযাপনে সীমাবদ্ধ থাকেন, যার ফলস্বরূপ তারা নিজেদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতা অর্জন করতে পারেন না এবং সেগুলোকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হন। মুসকান আরও যোগ করেন যে, মেয়েদের মধ্যে বিদ্যমান এই রাজনীতিবিমুখতা দূর করে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তার মতে, একটি ছাত্রসংগঠনের দায়িত্ব কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ রাখা নয়, বরং দলমত নির্বিশেষে সকল সাধারণ শিক্ষার্থীর অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য নিরলস কাজ করে যাওয়া। এই লক্ষ্যে প্রশাসন ও শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি জোর দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শামীমা সুলতানা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিগত প্রায় ১৬-১৭ বছরে বিভিন্ন নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কারণে সমাজে রাজনীতি সম্পর্কে এক ধরনের অনীহা বা বিতৃষ্ণা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, দেশের জন্য কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হলে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হওয়া অপরিহার্য। অধ্যাপক সুলতানা শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা শুধুমাত্র শিক্ষাজীবনে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের বৃহত্তর কল্যাণে নিজেদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করেন এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকেন।

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান নারীশক্তির সম্মিলিত ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী, এবং যদি এই বিশাল সংখ্যক নারী ঐক্যবদ্ধভাবে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হন, তবে কোনো শক্তিই তাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। অধ্যাপক খান তার বক্তব্যে নারীদের আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতার ওপর জোর দেন এবং তাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিটি ক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, নারীর সঠিক ক্ষমতায়নই পারে একটি উন্নত ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার এক পবিত্র স্থান, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীই একজন শিল্পী এবং তাদের সবচেয়ে বড় শিল্পকর্ম হলো নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তিনি শিক্ষার্থীদের কেবল মেধা অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে নৈতিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। অধ্যাপক আহসান দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, শুধু মেধাবী হলেই চলবে না, নৈতিকভাবে আলোকিত মানুষ হওয়া অত্যাবশ্যক। কারণ নৈতিকতা ছাড়া অর্জিত সাফল্য কখনো স্থায়ী হয় না এবং তা সমাজের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না।

উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান শিক্ষার্থীদের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসচর্চা এবং নির্মোহ ইতিহাস রচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান, যা জাতি গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সঠিক ইতিহাস জ্ঞান ছাড়া জাতি তার শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই নবীন বরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবেদা সুলতানা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুর রব এবং সহকারী প্রক্টর ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু সাঈফ মো. মুনতাকিমুল বারী। তাদের উপস্থিতি এই আয়োজনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য আরও বাড়িয়ে তোলে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ