বৃহস্পতিবার, 9 জুলাই 2026
⚠ ব্রেকিং
রাজনীতি 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

লালমনিরহাটে মির্জা ফখরুল: নতুন বাংলাদেশে মাদক-মুক্ত সমাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার স্বপ্ন

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লালমনিরহাটে বলেছেন, নতুন এক পরিবেশে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ার সুযোগ এসেছে। ‘আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন’ কর্মসূচির উদ্বোধনে তিনি যুবসমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানান এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।

শেয়ার করুন:
লালমনিরহাটে মির্জা ফখরুল: নতুন বাংলাদেশে মাদক-মুক্ত সমাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার স্বপ্ন

লালমনিরহাটে এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি নতুন পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা দেশকে নতুন করে গড়ার এক অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি করেছে। শনিবার বিকেলে লালমনিরহাট শহরের রেলওয়ে এমটি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে ‘আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন’ কর্মসূচি পুনরায় শুরু উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে চলমান সামাজিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করার ওপর জোর দেন।

দেশের ভবিষ্যৎ যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকের সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাদকের আগ্রাসন আমাদের সমাজকে পঙ্গু করে দিচ্ছে এবং আমাদের যুবকদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। এই সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন ব্যাপকভিত্তিক জনসম্পৃক্ততা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

লালমনিরহাট-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন’ কীভাবে শুরু হলো, তা দেখতে ও বুঝতে তিনি লালমনিরহাটে এসেছেন। তার বিশ্বাস, বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদক, জুয়া, যৌতুক ও বাল্যবিয়েকে ‘না’ বলবে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। এই ধরনের সামাজিক আন্দোলনগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী সমাজ গঠন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিএনপির মহাসচিব তার বক্তব্যে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে এই অঞ্চলের মানুষ ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন সফলভাবে করেছে। সেই লড়াইয়ে তাদের সাফল্য এসেছে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে বলেছেন যে, সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা যেকোনো মূল্যে সফল করবে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তিস্তা অববাহিকার মানুষ নতুন জীবন ফিরে পাবে এবং এই অঞ্চল অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনেক এগিয়ে যাবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ‘আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন’ বিষয়ের ওপর মুখ্য আলোচক হিসেবে বিস্তারিত বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আসাদুল হাবিব দুলু। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোনীতা দাস এবং স্থানীয় শিক্ষক ও আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন কর্মসূচির সহযোগী সদস্য স্বপ্না জামান প্রমুখ।

আলোচনাসভা শেষে লালমনিরহাট শহরের শত বছরের প্রাচীন রেলওয়ে এমটি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। এই শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিশন মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘হামার বাড়ি’তে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় স্থানীয় জনগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন, যা কর্মসূচির প্রতি ব্যাপক জনসমর্থনের ইঙ্গিত বহন করে।

‘আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন’ এর মূল প্রতিপাদ্য হলো সামাজিক অপরাধ যেমন মাদক, জুয়া, যৌতুক ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আসাদুল হাবিব দুলু ৩ হাজার ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক কর্মীকে শপথবাক্য পাঠ করান। স্বেচ্ছাসেবকরা শপথ নেন যে, তারা সমাজের এই ব্যাধিগুলোর বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কাজ করবেন। এর আগে, এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার রাতে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম মিলনায়তনে যৌতুকবিহীন সাতটি বিয়ে সম্পন্ন হয়, যা এই আন্দোলনের একটি বাস্তব ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ