বৃহস্পতিবার, 9 জুলাই 2026
⚠ ব্রেকিং
রাজনীতি 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

গুলিস্তানে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ মিছিলে হামলা: জামায়াতের অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

রাজধানীর গুলিস্তানে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর একটি বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। জামায়াত অভিযোগ করেছে, বিএনপির নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে, যাতে ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন। তবে বিএনপি পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, জামায়াতই প্রথমে হামলা চালায়। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।

শেয়ার করুন:
গুলিস্তানে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ মিছিলে হামলা: জামায়াতের অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

রাজধানীর গুলিস্তানে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আয়োজিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন বলে জামায়াত দাবি করেছে। দলটির অভিযোগ, বিরোধী দল বিএনপির নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া ফ্লাইওভারের নিচে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন গণমাধ্যমকে জানান, বিএনপির সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে গুলিস্তান এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি চালিয়ে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে তারা নগর প্লাজা মার্কেট তালাবদ্ধ করে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ নেয়, সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং কম্পিউটার নিয়ে যায়। সাধারণ ব্যবসায়ীদের অনুরোধে জামায়াতের স্থানীয় নেতারা তাদের পাশে দাঁড়ান এবং এই অন্যায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন।

হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে জামায়াত নেতা সুমন আরও বলেন, শনিবার বিকেলে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির প্রতিবাদে ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে থেকে স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মী ও ব্যবসায়ীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি অগ্রসর হওয়ার সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছুরি, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় ১৫-২০ জন ব্যবসায়ী ও জামায়াতের নেতা-কর্মী আহত হন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আহতদের বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুলিস্তানের সংঘর্ষের ঘটনায় মো. কবির আহমেদ (৪৫) নামের এক জামায়াত নেতা ছুরিকাহত হয়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। তিনি গুলিস্তান ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং একজন মোবাইল যন্ত্রাংশের ব্যবসায়ী। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয় এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এই ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

এদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ মামুন। তিনি দাবি করেন, বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুলবাড়িয়া ক্লাবে বসে ছিলেন এবং প্রায় প্রতিদিনই তারা আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকাতে বিক্ষোভ করেন। মামুন জানান, তিনি শুনেছেন যে জামায়াত ট্রেড সেন্টারের ভেতর থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রথমে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে দুই পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তিনি ঘটনাস্থলে না থাকলেও জোর দিয়ে বলেন, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের কোনো দ্বন্দ্ব নেই এবং জামায়াত গায়ে পড়ে ঝামেলা করতে পারে না।

মার্কেট দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতা মামুন বলেন, শ্রম অধিদপ্তর থেকে সরকারিভাবে মার্কেট পরিচালনার জন্য পাঁচজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। পরে যুবদল নেতা রনজু দলীয় লোকজন ও পুলিশের সহযোগিতায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচজনকে তাদের পদে বসিয়ে দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকারি দল হিসেবে সরকারি আদেশ মানা তাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং এর বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তার দাবি, কেউ মার্কেট দখল করতে যায়নি, বরং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, স্থানীয় দোকানদারদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে এটি বড় কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ছিল না এবং বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

এই ঘটনা আবারও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেকার অস্থিরতা এবং চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগগুলোকে সামনে এনেছে। জামায়াত ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ