সোমবার, 28 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
জাতীয় 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিশ বছর পূর্তি: শিক্ষা ও গবেষণায় সাফল্যের পথচলা

রাজধানীর আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিল। বক্তারা ১৯৯৬ সালে মাত্র ২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন দশকের গৌরবময় পথচলার কথা তুলে ধরেন।

শেয়ার করুন:
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিশ বছর পূর্তি: শিক্ষা ও গবেষণায় সাফল্যের পথচলা

রাজধানীর আফতাবনগরে অবস্থিত ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী গত শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে। দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিন দশকের পথচলা স্মরণ করে আয়োজিত হয় নানা অনুষ্ঠানমালা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড, প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অ্যালামনাইদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, যা এর দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

সকালের প্রথম প্রহরে বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ, শিক্ষকমণ্ডলী, বর্তমান শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশাল এক দল উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী পর্বের পরপরই একটি আনন্দ র‍্যালি ক্যাম্পাস এবং এর আশপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার গৌরবময় ইতিহাস এবং অর্জিত সাফল্যের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন বহন করেন, যা স্থানীয় জনসাধারণ এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল আলোচনা পর্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান। তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদান পদ্ধতি, গবেষণার সুযোগ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব করেন অধ্যাপক অনিন্দিতা পাল, যিনি শিক্ষকমণ্ডলীর নিরলস পরিশ্রম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্বের পেছনে তাদের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। কর্মকর্তাদের পক্ষে রোজিনা পারভিন এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য রুবানা হক তাদের মূল্যবান অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিরোমন্থন করেন, যা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে সদস্য মুনিজে মঞ্জুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় ট্রাস্টি বোর্ডের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সমর্থনের ওপর আলোকপাত করেন। সাবেক উপাচার্যদের মধ্যে অধ্যাপক এম এম শহিদুল হাসান তার কার্যকালের অভিজ্ঞতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিক উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। আয়োজনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি তার উদ্দীপনামূলক বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের কথা বিশদভাবে বর্ণনা করেন এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য দক্ষ ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরির গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

স্মৃতিচারণা পর্বে বক্তারা আবেগঘন কণ্ঠে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা পর্বের কথা স্মরণ করেন। ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র ২০ জন শিক্ষার্থী এবং সীমিত সংখ্যক শিক্ষক নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ ও স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। গত তিন দশকে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র উচ্চমানের শিক্ষাদানই নয়, বরং গবেষণা ও উদ্ভাবনেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। এর ফলস্বরূপ প্রতিষ্ঠানটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে, বিশেষ করে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এক অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করছে। বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক এক্সিলেন্স, আধুনিক অবকাঠামো, এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

আলোচনা পর্বের ফাঁকে ফাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং শিক্ষকমণ্ডলীর পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি এবং নাটিকার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। এই সাংস্কৃতিক পরিবেশনাগুলো পুরো আয়োজনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে এবং উপস্থিত সকলের মধ্যে আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে দেয়। এটি কেবল বিনোদনই নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের সৃজনশীলতা ও প্রতিভার এক চমৎকার প্রদর্শনী ছিল, যা সকলের মন জয় করে নেয়।

দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যবৃন্দ, সহ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাদের সম্মিলিত উপস্থিতি ও উৎসাহ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনকে আরও মহিমান্বিত করে তোলে। এই মিলনমেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের এক সেতুবন্ধন তৈরি করে, যেখানে সবাই মিলে এর অগ্রযাত্রার সাক্ষী হতে পেরেছেন এবং নতুন করে এর সাফল্যের অংশীদার হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, এটি ছিল বিগত তিন দশকের কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং সাফল্যের এক প্রতিচ্ছবি। এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে যেতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামী দিনেও মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে আরও বৃহত্তর ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। এটি নতুন প্রজন্মের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, স্বপ্ন, অধ্যবসায় এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব, এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সেই স্বপ্নের সারথি হিসেবে কাজ করে যাবে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ