বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
⚠ ব্রেকিং
সিনেমা 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

পাকিস্তানি নাটক 'দার-ই-নাজাত' বিতর্কে দুরেফিশানের সাহসী জবাব: প্রশ্ন তুলছেন সামাজিক বৈষম্যের

জনপ্রিয় পাকিস্তানি নাটক 'দার-ই-নাজাত' এর একটি দৃশ্য নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে। জারিয়াব চরিত্রে অভিনয় করা দুরেফিশান সেলিম এই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন, যেখানে তিনি নাটকটিকে নারীর আত্মানুসন্ধান ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার একটি মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরেছেন।

শেয়ার করুন:
পাকিস্তানি নাটক 'দার-ই-নাজাত' বিতর্কে দুরেফিশানের সাহসী জবাব: প্রশ্ন তুলছেন সামাজিক বৈষম্যের

জনপ্রিয় পাকিস্তানি টেলিভিশন নাটক ‘দার-ই-নাজাত’ বর্তমানে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে এর একটি নির্দিষ্ট দৃশ্য ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নাটকের মূল চরিত্র জারিয়াব এবং আবু বকরের একটি দৃশ্য, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। জারিয়াব চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম, যিনি সম্প্রতি এই সমালোচনার জবাব দিতে ইনস্টাগ্রামের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং নাটকের গভীর বার্তাটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

নাটকের ১৪ ও ১৫তম পর্বে জারিয়াবকে মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখা যায়। দীর্ঘদিনের প্রেমিক ও শৈশবের বন্ধু জামিলের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি তীব্র উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভুগতে থাকেন। এই কঠিন সময়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন, যা তার মানসিক যন্ত্রণার গভীরতা প্রকাশ করে। এমন পরিস্থিতিতেই আবু বকর জারিয়াবের সাহায্যে এগিয়ে আসেন, যা দর্শকদের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

এই দৃশ্যটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দর্শকরা তীব্র সমালোচনা শুরু করেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন যে, জারিয়াবের মতো একজন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত নারীর একজন পুরুষের সাহায্যের চেয়ে বরং মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। আবার অনেক দর্শক মনে করেন, নাটকটিতে নারীর কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য একজন পুরুষের উপস্থিতিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার ধারণার পরিপন্থী।

গত রবিবার ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম এই সমালোচনার জবাব দেন। তার মতে, ‘দার-ই-নাজাত’ নারীদের এমন কোনো বার্তা দিচ্ছে না যে, কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসতে তাদের একজন পুরুষের প্রয়োজন। বরং, এই নাটকটি নারী ও পুরুষের জন্য সমাজের প্রচলিত আলাদা নিয়মগুলোকেই প্রশ্ন করছে এবং সামাজিক বৈষম্যের দিকে আলোকপাত করছে।

দুরেফিশান তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, সমাজে একজন পুরুষ কোনো ভুল করার পর অনুতপ্ত হয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ পান। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে তাদের পুরোনো সিদ্ধান্তের দায় অনেক বেশি দিন বহন করতে হয় এবং এর ফলস্বরূপ তাদের জীবন অনেক বেশি জটিল হয়ে ওঠে। এই বৈষম্যই নাটকের মূল উপজীব্য, যা দর্শকদের ভাবিয়ে তোলার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

অভিনেত্রীর মতে, কোনো চরিত্রের সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে দর্শকের একমত হওয়া জরুরি নয়। চরিত্রটির অনুভূতি এবং তার পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মানুষ হিসেবে আমরা অত্যন্ত জটিল; সবকিছুকে কেবল ঠিক-ভুলের সরল হিসাবে দেখা যায় না। জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং তার পেছনের আবেগগত কারণগুলো বুঝতে পারলেই একটি চরিত্রের প্রতি ন্যায়বিচার করা সম্ভব।

দুরেফিশান তার বক্তব্যে জারিয়াব ও জামিলের জীবনের পার্থক্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন। নাটকে দেখা যায়, ধর্মের পথে ফেরার পর জামিল জারিয়াবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এরপর তিনি বিয়ে করে একটি নতুন জীবন শুরু করার পথে অনায়াসে এগিয়ে যান, যেখানে তার অতীত সম্পর্ক কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। অন্যদিকে, জারিয়াব তার অতীত নিয়ে অপরাধবোধে ভুগতে থাকেন। বিয়ের আগে জামিলের সঙ্গে সম্পর্কে থাকার বিষয়টি তাকে ক্রমাগত কষ্ট দেয় এবং এর ফলে নতুনভাবে জীবন শুরু করার কথা তিনি সহজে ভাবতে পারেন না।

দুরেফিশানের মতে, এখানেই নাটকের মূল প্রশ্নটি নিহিত: ভুল করার পর একজন পুরুষ যে সহজে নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ পান, একজন নারীও কি একই সুযোগ পান? এই প্রশ্নটি সমাজের গভীরে প্রোথিত লিঙ্গবৈষম্য এবং দ্বৈত নৈতিকতার দিকে আঙুল তোলে, যা দর্শকদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্বিবেচনা করতে উৎসাহিত করে।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দুরেফিশান এমন একটি পোস্টও শেয়ার করেছেন, যেখানে ‘দার-ই-নাজাত’কে একজন নারীর নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পোস্টটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, “কখনো কখনো নিজেকে খুঁজে পাওয়াটাই হতে পারে সেই ভালোবাসার গল্প, যেটি আপনার সব সময় প্রয়োজন ছিল।” এই উক্তিটি নাটকের মূল সুরকে আরও স্পষ্ট করে তোলে, যেখানে বাহ্যিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে নারীর আত্মানুসন্ধান ও স্বকীয়তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

দুরেফিশানের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘দার-ই-নাজাত’কে কেবল হৃদয়ভাঙার পর একজন নারীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প হিসেবে দেখলে নাটকটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। এটি কেবল একটি প্রেম বা বিচ্ছেদের গল্প নয়, বরং এটি সমাজের প্রচলিত ধারণা, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং একজন নারীর আত্মপরিচয় ও আত্মমর্যাদা খুঁজে পাওয়ার এক গভীর যাত্রার প্রতিচ্ছবি।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ