শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অষ্টম ব্যাচের লিখিত বাছাই পরীক্ষা দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশ নেন ৫২ হাজার ২০০ প্রার্থী, যা ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনে তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। এই উদ্যোগ সরকারের বৃহত্তর কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার একটি অংশ, যা দেশের যুব সমাজকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটি দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য আধুনিক ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে, যা প্রশিক্ষণের মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করছে।
ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অষ্টম ব্যাচে সারা দেশে মোট ৪ হাজার ৮০০টি আসনের বিপরীতে প্রায় ৮১ হাজার ৪০০ জন আবেদন করেছিলেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ৫২ হাজার ২০০টি আবেদন বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বিপুল সংখ্যক বৈধ আবেদনকারীর মধ্যেই শনিবার লিখিত বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যা সীমিত আসনের বিপরীতে তীব্র প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরে। এটি প্রমাণ করে যে, ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ সম্পর্কে যুবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
লিখিত পরীক্ষা চলাকালে কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন। তাঁরা রাজধানীর কল্যাণপুরে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। দেশের অন্য জেলাগুলোতেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরীক্ষা কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করেন, যা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করে।
রাজধানীর কল্যাণপুরে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রায় ৫ হাজার ৫০০ প্রার্থী অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল, ২০ সেপ্টেম্বর। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সমন্বিত ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে। এই নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে শুরু হবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের অষ্টম ব্যাচ, যা তাদের ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১২ হাজার ৩৫৪ জন প্রশিক্ষণার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং বাজারে কাজ করে আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁদের মোট আয় প্রায় ৩৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ কোটি ৩০ লাখ টাকার সমপরিমাণ। এই পরিসংখ্যান প্রকল্পের সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং দেশের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ।
এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শিক্ষিত যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং বেকারত্বের হার কমাতেও সাহায্য করে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা বাংলাদেশকে একটি দক্ষ ও প্রযুক্তি-নির্ভর জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হচ্ছে, যা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য পূরণেও অবদান রাখছে।