শনিবার, 19 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
জাতীয় 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

ভারতে পলাতক আসামিদের দ্বারা অস্থিতিশীলতা রোধে ভারতীয় হাইকমিশনারকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এক বৈঠকে ভারতে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের দ্বারা যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির প্রচেষ্টা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন:

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভারতে পলাতক বাংলাদেশের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের দ্বারা যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির প্রচেষ্টার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ভারতীয় হাইকমিশনারকে এ ধরনের অপচেষ্টা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান। এই কূটনৈতিক আলাপচারিতা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে।

মাহদী আমিন তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেছেন যে, যারা আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয়েছেন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা যেন সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করতে না পারে। বিশেষত, যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ফ্যাসিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে চায়, তাদের কার্যকলাপ কঠোরভাবে দমন করা জরুরি। এই আহ্বান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অপরাধী ও পলাতক ব্যক্তিদের আশ্রয় নিয়ে আলোচনা চলছে। উভয় দেশই সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত অপরাধ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার এই বার্তা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ, যেখানে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যেন কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সে বিষয়ে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই ধরনের অনুরোধের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গভীর উদ্বেগ। পলাতক অপরাধীরা প্রায়শই দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে, যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে দেশের প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদেশে আশ্রয় নেয়, তাদের কার্যকলাপ নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান, যা নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। উভয় দেশই একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে শ্রদ্ধাশীল এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ। মাহদী আমিনের এই আহ্বান সেই সম্পর্কের গভীরতা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অবহিত হয়েছেন এবং উভয় দেশের নিরাপত্তা সংস্থাকে এই বিষয়ে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করা হবে বলে আশা করা যায়। অতীতেও ভারত বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবেলায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে বাংলাদেশ সরকার বিশ্বাস করে। এই পারস্পরিক সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের কল্যাণেও সহায়ক হবে।

এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও সাহায্য করবে। এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ সরকার দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কোনো আপস করতে রাজি নয় এবং এ লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে, যারা দেশের বিচারিক প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে বিদেশে পলাতক রয়েছে, তাদের যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার এই আহ্বান কেবল একটি নিরাপত্তা বিষয়ক বার্তা নয়, বরং এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান শক্তিশালী কূটনৈতিক বন্ধন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি তাদের যৌথ অঙ্গীকারের একটি সুস্পষ্ট প্রকাশ। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সদা সতর্ক ও সক্রিয়।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ