শনিবার, 19 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
রাজনীতি 🇧🇩 বাংলা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল সভাপতির কড়া বার্তা: 'সন্ত্রাসী রাজনীতি নয়, জোর করে কর্মসূচিতে নয়'

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিয়েছেন যে, দেশের কোনো ক্যাম্পাসে আর সন্ত্রাসী ছাত্ররাজনীতি চলবে না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে এবং কাউকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য না করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

শেয়ার করুন:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল সভাপতির কড়া বার্তা: 'সন্ত্রাসী রাজনীতি নয়, জোর করে কর্মসূচিতে নয়'

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক নবীনবরণ অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম দেশের ছাত্ররাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে দেশের কোনো ক্যাম্পাসে আর সন্ত্রাসী ছাত্ররাজনীতি বরদাশত করা হবে না এবং কোনো শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা হবে না। এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক ভূমিকা এবং এর ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। রাকিবুল ইসলামের এই বক্তব্য কেবল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, বরং সারা দেশের ছাত্ররাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

ছাত্রদল সভাপতি তার বক্তব্যে নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি জোর দিয়ে বলেন, ছাত্ররাজনীতি কখনোই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো কর্মসূচি চাপিয়ে দেবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, "কোনো দখলের রাজনীতি, রুম দখলের রাজনীতি এই বাংলাদেশে আর কখনো হবে না।" এই মন্তব্য দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে প্রচলিত দখলদারিত্ব ও বলপ্রয়োগের রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট অবস্থান নির্দেশ করে। রাকিবুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন যে, তার এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে শিক্ষাঙ্গনে একটি সুস্থ ও গঠনমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরে আসবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে নিজেদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারবে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে রাকিবুল ইসলাম নবীনদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গঠনে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, লাখ লাখ শিক্ষার্থীর তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাই সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানো অপরিহার্য। ছাত্রদল সভাপতি কেবল বিসিএস বা সরকারি চাকরিকে ক্যারিয়ারের একমাত্র লক্ষ্য না ধরে বেসরকারি খাত, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), তৈরি পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন উদীয়মান ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বহুমুখী ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা উন্মোচনে উৎসাহিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ছাত্রদলের অতীত আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রাকিবুল ইসলাম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গত কয়েক বছর ধরে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা নিরন্তর প্রতিবাদ করে আসছেন। এসব আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে অনেক নেতা-কর্মী গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমনকি অনেকের শিক্ষাজীবনও অকালে শেষ হয়ে গেছে। তিনি এই আত্মত্যাগকে স্মরণ করে ছাত্রদলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাম্প্রতিক "জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে" জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ছাত্রদল সভাপতি। তিনি বলেন, দেশের ক্রান্তিকালে শিক্ষার্থীরা সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এবং তাদের এই সাহসী পদক্ষেপ দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই প্রশংসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধ আরও বাড়াতে সাহায্য করবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাদের অংশগ্রহণের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা। অতিথিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব ও মর্যাদা আরও বাড়িয়ে তোলে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, সুমন সরদার এবং মোস্তাফিজুর রহমান। বক্তারা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব এবং তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন, যা উপস্থিত নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। এই অনুষ্ঠান ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তি ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছে, যা দেশের ছাত্ররাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ