Login সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও খুঁজুন ই-পেপার Eng Login কলাম মতামত আত্মহত্যা নয়—জীবন সুন্দর, জীবনের স্বাদ সুন্দরতম খান মো. রবিউল আলম যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষক প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১: ০০ সমাজে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। নানা বয়সের মানুষের মধ্যে এ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে আত্মহত্যা করেছেন ৭৬ হাজার ৩৬১ জন। অর্থাৎ বছরে গড়ে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বে প্রতিবছর আত্মহত্যা করে মারা যাচ্ছেন ৭ লাখ ২০ হাজার মানুষ। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, কিশোর, যুবক-যুবতীরা আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকছেন বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আরেকটি প্রতিবেদনে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর জন্য আত্মহত্যাকে তৃতীয় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আত্মহত্যার মনোতত্ত্বগত দিক নিয়ে কাজ করেছেন সিগমন্ড ফ্রয়েড ও ড. ইগোর গালেনকা। ডেভিড এমিল ডুরখেইম আত্মহত্যার সমাজতাত্ত্বিক দিক নিয়ে গবেষণা করেছেন।
ফ্রয়েডের মতে, আত্মহত্যা মূলত নিজের ভেতরের অবদমিত ক্ষোভ, আগ্রাসন বা অন্যের প্রতি থাকা তীব্র রাগ নিজের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চরম বহিঃপ্রকাশ। ফ্রয়েড মনে করতেন, কোনো মানুষ সরাসরি নিজেকে শেষ করার মানসিক শক্তি পান না, যদি না এর পেছনে গভীর কোনো মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব জড়িয়ে থাকে।
আরও পড়ুন পুলিশ কেন আত্মহত্যা করে ০৮ মে ২০২৫ আমেরিকান মনোরোগবিশেষজ্ঞ ও মাউন্ট সিনাই সুইসাইড প্রিভেনশন রিসার্চ ল্যাবরেটরির পরিচালক ড. ইগোর গালেনকার মতে, আত্মহত্যা কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণে হঠাৎ করে ঘটে না। এটি মূলত একজন মানুষের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক দুর্বলতা ও তীব্র মানসিক সংকটের এক জটিল ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার ফল। ড. গালেনকা ও তাঁর গবেষক দল দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় গবেষণার পর আত্মহত্যার মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে ‘ন্যারেটিভ-ক্রাইসিস মডেল’ নামে চার ধাপের একটি থিওরি দাঁড় করিয়েছেন। দুনিয়াজুড়ে আত্মহত্যাকেন্দ্রিক আলোচনায় এ থিওরি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এই থিওরি অনুযায়ী, আত্মহত্যার কারণগুলো হলো—১। ক্রনিক যার পেছনে রয়েছে মূলত শৈশবের কোনো ট্রমা বা মানসিক আঘাত। ২। তীব্র মানসিক চাপযুক্ত জীবন। ৩) সাব-অ্যাকিউট সুইসাইডাল ন্যারেটিভ—যেখানে ব্যক্তি নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মনে মনে একটি নেতিবাচক