বৃহস্পতিবার, 10 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
জাতীয় 🇧🇩 বাংলা

গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের জাতীয় কনভেনশন শুক্রবার: জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ডাক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়তে আগামী শুক্রবার জাতীয় কনভেনশন আয়োজন করছে 'গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য'। লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের এই দিনব্যাপী আয়োজনে মুক্তচিন্তা ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হবে।

শেয়ার করুন:
গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের জাতীয় কনভেনশন শুক্রবার: জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ডাক

ঢাকাসহ সারাদেশে সাংস্কৃতিক ঐক্য জোরদার করার লক্ষ্যে ‘গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য’ আগামী শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক জাতীয় কনভেনশন আয়োজন করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই আয়োজনে লেখক, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেবেন। ‘কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্য-কালের ডাক’ স্লোগানে আয়োজিত এই কনভেনশনের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমান জাতীয় বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে একটি ইতিবাচক ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নির্মাণ এবং সমাজের সর্বস্তরে মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটানো।

বুধবার সকালে রাজধানীর তোপখানায় উদীচী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কনভেনশনের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। আয়োজকেরা বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সমৃদ্ধ ধারাকে রক্ষা ও বিকশিত করার তাগিদ থেকেই এই বিশেষ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তন এবং একটি শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা কেবল ব্যক্তি বা দলের পরিবর্তনে সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন একটি ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণ, যা এই কনভেনশনের মাধ্যমে আরও গতি পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাতীয় কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব ও বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লালটু উল্লেখ করেন যে, এখনো মুক্ত গণমাধ্যম, মুক্তচিন্তা এবং সংস্কৃতিচর্চার জন্য শঙ্কাহীন পরিবেশ পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে বাধা, মব সন্ত্রাস, নারী ও আদিবাসীদের ওপর নিপীড়ন এবং স্বাধীন মতপ্রকাশে আক্রমণের ঘটনাগুলোর কথা তুলে ধরে বলেন, এই প্রতিকূলতা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ সাংস্কৃতিক আন্দোলন অপরিহার্য।

‘গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য’ এর যাত্রাপথ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের ৬ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে ৩১টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের যৌথ প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই মোর্চার সূত্রপাত ঘটে। এরপর থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিশেষ করে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ২০ জুলাই কারফিউ জারির পর ২৬ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদী গানের মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে কারফিউ ভাঙার মতো সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই সাংস্কৃতিক মোর্চা।

মোর্চাটি এরপর ৩০ জুলাই গান নিয়ে রাজপথের কর্মসূচি এবং ২ আগস্ট ‘দ্রোহযাত্রা’ আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের পক্ষে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন গণসংস্কৃতি কেন্দ্রের উপদেষ্টা জাকির হোসেন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্রের সমন্বয়ক বিমল কান্তি দাশ এবং সমাজ চিন্তা ফোরামের রঞ্জন দাশ শিবুসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।

বক্তারা দেশের সংস্কৃতিকর্মীদের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস ও গৌরব পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তারা বলেন যে, বর্তমান সময়ের বিভ্রান্তি ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে জনগণের পক্ষে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যাপক ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ সাংস্কৃতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কনভেনশন সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে এবং এটি কেবল একটি সমাবেশ নয়, বরং ভবিষ্যতের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

কনভেনশনের দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ১০টায় জাতীয় নাট্যশালা প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যা উদ্বোধন করবেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক নূরুল কবীর। উদ্বোধনের পর একটি সংক্ষিপ্ত শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে শুরু হবে উদ্বোধনী অধিবেশন। এই অধিবেশনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতৃত্বের দীপা দত্ত, প্রখ্যাত লেখক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ এবং কারাবরণকারী বাউলশিল্পী আবুল সরকার, যাদের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা অংশগ্রহণকারীদের অনুপ্রাণিত করবে।

মধ্যাহ্নবিরতির পর বেলা আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত চলবে সাংগঠনিক অধিবেশন, যেখানে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। এরপর সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়েছে, যা অংশগ্রহণকারীদের মন জয় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাত সাড়ে আটটায় এই জাতীয় কনভেনশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে, যা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করবে বলে আয়োজকরা মনে করছেন।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ