বুধবার, 9 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
মধ্যপ্রাচ্য 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

ইরানে ফের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, নাগরিকদের সাশ্রয়ের আহ্বান সরকারের; বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও অস্থিরতার শঙ্কা

ইরানে আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। সরকার নাগরিকদের প্রতি জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে, কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে রাজস্ব আয় কমে গেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি অতীতের মতো জনবিক্ষোভের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
ইরানে ফের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, নাগরিকদের সাশ্রয়ের আহ্বান সরকারের; বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও অস্থিরতার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরানে জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির সরকার নাগরিকদের প্রতি সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতি এবং ব্যয়বহুল ভর্তুকি ব্যবস্থা বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে তেহরান। গত ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স ও এএফপি জানিয়েছে, এই মূল্যবৃদ্ধি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সংঘাত, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন বাহিনীর দ্বারা ইরানি বন্দর অবরোধের কারণে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

নতুন মূল্য কাঠামো অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রথম ৬০ লিটার পেট্রোলের জন্য পূর্বের মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে। তবে, এরপরের ৫০ লিটার পেট্রোলের জন্য কিছুটা বর্ধিত মূল্য পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ, কোনো মোটরচালক যদি মাসে ১১০ লিটারের বেশি পেট্রোল ব্যবহার করেন, তবে অতিরিক্ত প্রতি লিটারের জন্য মূল্য দ্বিগুণ হয়ে যাবে, যা ৫০,০০০ রিয়াল থেকে বেড়ে ১,০০,০০০ রিয়াল (প্রায় ০.০৭ মার্কিন ডলার) হবে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এবং সরকারের উপর ভর্তুকির চাপ কমানো।

বিশ্বের অন্যতম সস্তা জ্বালানি তেলের দেশ হওয়া সত্ত্বেও, ইরানের নাগরিকরা এখন কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান যুদ্ধ, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন বাহিনীর অবরোধের কারণে দেশের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে, ইরানি কর্মকর্তারা কয়েক মাস ধরেই জ্বালানি ভর্তুকি সমন্বয় করার বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন, যাতে কমে যাওয়া রাজস্বের কিছুটা পূরণ করা যায়।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ চলতি মাসের শুরুর দিকে এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, “যদি আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করি, তবে দেশে উৎপাদিত পেট্রোল দিয়েই আমরা কাজ চালিয়ে নিতে পারব।” তিনি আরও বলেন, “এটা স্পষ্ট যে আমাদের জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। অবশ্যই, এই উচ্চ ব্যবহারের জন্য আমাদের জনগণ একা দায়ী নয়; এর জন্য আমাদের শিল্পও দায়ী।” তার এই মন্তব্য সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ের উপর জোর দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

ইরানের বাজেট প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই রপ্তানি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। যেখানে আগে দৈনিক প্রায় ৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি হতো, আগস্ট মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে দৈনিক প্রায় ২.২ মিলিয়ন ব্যারেলে। একই সাথে, দেশটি অভ্যন্তরীণভাবে যে পরিমাণ তেল উৎপাদন করছে, তার চেয়ে বেশি তেল ভোগ করছে, যা দেশের জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের একটি স্পষ্ট চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে। এসব ভিডিওতে তেহরানের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে, যা জ্বালানি ঘাটতি এবং নাগরিকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়। এই দৃশ্যগুলো পূর্বের জ্বালানি সংকটের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে এবং জনসাধারণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।

এটি ডিসেম্বর মাস থেকে দ্বিতীয়বারের মতো পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধি। এর আগে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে এবং ২০২৩ সালের শুরুর দিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। সেই বিক্ষোভগুলো দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

ইরানের জনগণ এমনিতেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রিয়ালের মানের ব্যাপক পতনের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। নতুন করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি তাদের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে এবং অতীতের মতো আবারও ব্যাপক জনবিক্ষোভ ও অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ