বৃহস্পতিবার, 10 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার ব্যাখ্যায় স্বচ্ছতার প্রশ্ন

১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তকে নিয়োগের মানোন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে, তিনি একইসঙ্গে স্বীকার করেছেন যে, ভাইভা তুলনামূলক ব্যক্তিনির্ভর হওয়ায় কারসাজি বা পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ বেশি থাকে। এই বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি, যেখানে স্বচ্ছতা ও সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে।

শেয়ার করুন:
সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার ব্যাখ্যায় স্বচ্ছতার প্রশ্ন

১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনকে নিয়োগের সামগ্রিক মানোন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর প্রায় ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে, পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো নতুন বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন। মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রশ্নটির মধ্যে একটি 'পারসেপশন' বা ধারণা নিহিত রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের সরাসরি প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করেন যে, সরকার কি দুর্নীতি করার জন্য অথবা তাদের নির্বাচিত মানুষদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জানান, সাংবাদিকের কাজই হলো চাঁচাছোলা প্রশ্ন করা এবং তিনি সেই প্রশ্নেরও জবাব দিতে প্রস্তুত আছেন।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা আরও স্বীকার করেন যে, ভাইভা যেহেতু তুলনামূলকভাবে বিষয়ভিত্তিক এবং ব্যক্তিনির্ভর একটি প্রক্রিয়া, তাই এতে কারসাজি বা পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ বেশি থাকে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে যখন যুক্তি দেওয়া হয় যে, ভাইভায় বেশি নম্বর রাখার ফলে লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া প্রার্থীরা পিছিয়ে পড়তে পারেন, তখন তিনি এই যুক্তির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেননি। তবে, একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, শুধুমাত্র বইয়ের জ্ঞান সরকারি চাকরির জন্য যথেষ্ট নয়। একজন প্রার্থীর অন্যান্য যোগ্যতা এবং অ্যাপটিটিউড বা সহজাত দক্ষতাও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।

ডা. জাহেদ উর রহমান তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ব্যাখ্যা করেন যে, তিনি বেশ কয়েকটি বিসিএস পরীক্ষার ভাইভা বোর্ড পরিচালনা করেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় কোনো প্রার্থীর ফল কেমন হয়েছে, তা না জেনেও ভাইভায় এমন কিছু প্রার্থীকে তিনি পেয়েছেন, যাদের লিখিত পরীক্ষার ফল হয়তো যথেষ্ট ভালো ছিল না, কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মধ্যে একজন ভালো প্রশাসক হওয়ার গুণাবলি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, 'আমরা একজন প্রশাসক চাচ্ছি। আমাদের অনেকের রিটেনে ভালো করার পাশাপাশি চাকরিতে ভালো করার জন্য আরও কিছু অ্যাপটিটিউড আছে, যেটা আমার বিবেচনায় ভাইভা দিয়ে ভালো অ্যাসেসমেন্ট হতে পারে।'

মৌখিক পরীক্ষার পদ্ধতিতে অনিয়মের আশঙ্কা থাকলে, সেটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান যে, সরকার বিশ্বাস করে, এই ধরনের মার্কিংয়ের মাধ্যমেই আরও ভালো নিয়োগ সম্ভব এবং আইনগতভাবে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে সম্পূর্ণ সক্ষম। তিনি বলেন, 'সরকার বেআইনি কিছু করেনি, আইনগতভাবে করতে পারে। সরকারের মনে হয়েছে, এর মাধ্যমেই বেটার রিক্রুটমেন্ট সম্ভব।' এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরকারের সিদ্ধান্তের বৈধতার ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে আহ্বান জানান, যদি কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়ার পর সুনির্দিষ্ট অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তা অবশ্যই জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হলে তা ঠেকানোর জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানো অত্যাবশ্যক। এ সময় একজন সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল যে, লিখিত ও ভাইভায় একজন প্রার্থী কত নম্বর পেয়েছেন, তা প্রকাশের বিধান করা যায় কি না, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

সাংবাদিকের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, 'আমি এই ব্যাপারে আলাপ করতে পারি।' এর মাধ্যমে তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার আরও স্বচ্ছতা আনার সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের উন্মুক্ত মনোভাবের ইঙ্গিত দেন। সামগ্রিকভাবে, সরকারি চাকরির মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন নিয়োগের গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছে, অন্যদিকে এর সম্ভাব্য অপব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও উঠে এসেছে এই আলোচনা থেকে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ