রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
AI 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ করল ‘টাইম’ ম্যাগাজিন

মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম’ তাদের চতুর্থ বার্ষিক ‘টাইম ১০০ এআই’ তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে অবদান রাখা বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে সম্মানিত করা হয়েছে। স্যাম অল্টম্যান, ইলন মাস্ক, জেফ বেজোসসহ আরও অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

শেয়ার করুন:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ করল ‘টাইম’ ম্যাগাজিন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিশ্বজুড়ে অবদান রাখা সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির একটি বিশেষ তালিকা প্রকাশ করেছে। এটি সাময়িকীটির বার্ষিক ‘টাইম ১০০ এআই’ তালিকার চতুর্থ সংস্করণ, যা প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানকারী এবং উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা ব্যক্তিত্বদের সম্মানিত করে। এই তালিকাটি এআই প্রযুক্তির উদ্ভাবন, প্রয়োগ এবং নীতি নির্ধারণে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন, তাদের সম্মিলিত চিত্র তুলে ধরেছে।

এবারের ‘টাইম ১০০ এআই’ সংখ্যার বিশেষ প্রচ্ছদে এআই খাতের একঝাঁক শীর্ষ ব্যক্তিত্ব স্থান পেয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ওপেনএআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রোপিক-এর দারিও আমোদেই, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব ডোরিন বোগদান-মার্টিন, ওরাকলের ল্যারি এলিসন, অভিনেতা জোসেফ গর্ডন-লেভিট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তারকা প্যারিস হিলটন, আইবিএম-এর অরবিন্দ কৃষ্ণা, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেই-ফেই লি, ওপেনএআই-এর মিরা মুরাতি, টেসলা ও এক্সএআই-এর ইলন মাস্ক, ডেভিড স্যাক্স এবং ইলিয়া সুতস্কেভার। এই তালিকাটি এআইয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের বহুমুখী প্রভাবের স্বীকৃতিস্বরূপ।

এই বিশেষ সংখ্যাটিতে তালিকায় স্থান পাওয়া সবচেয়ে প্রভাবশালী কয়েকজনের বিস্তারিত জীবনবৃত্তান্ত ও কয়েকটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে থিংকিং মেশিন ল্যাবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিরা মুরাতি, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব ডোরিন বোগদান-মার্টিন এবং ওপেনএভিডেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ড্যানিয়েল নাডলারের মতো ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন। তাদের সাক্ষাৎকার ও প্রোফাইলগুলি এআইয়ের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

‘টাইম’ সাময়িকীর সম্পাদক ও সাংবাদিকেরা কয়েক মাস ধরে নিবিড় গবেষণা চালিয়ে এই প্রভাবশালী তালিকাটি তৈরি করেছেন। তারা এআই খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব এবং অসংখ্য বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ সংগ্রহ করেছেন। এই কঠোর নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছে যে, তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি নামই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে তাদের অসামান্য অবদান এবং প্রভাবের জন্য সুপরিচিত ও স্বীকৃত।

তৈরির পর পুরো তালিকাকে মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে: লিডারস (যারা এই খাতের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন), ইনোভেটরস (যারা নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন), শেপারস (যারা এআইয়ের সামাজিক ও নৈতিক কাঠামো গঠন করছেন) এবং থিংকারস (যারা এআইয়ের গভীর দার্শনিক ও তাত্ত্বিক দিক নিয়ে কাজ করছেন)। এই বিভাজন এআইয়ের ভবিষ্যৎ গঠনে কাজ করা ১০০ জন ব্যক্তির বহুমুখী ভূমিকার একটি সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।

২০২৬ সালের তালিকার বিষয়ে ‘টাইম’ সাময়িকীর প্রধান সম্পাদক স্যাম জ্যাকবস উল্লেখ করেছেন যে, তিন বছর আগে যখন তারা ‘টাইম ১০০ এআই’ তালিকা প্রকাশ করা শুরু করেন, তখন তাদের লক্ষ্য ছিল এআই খাতের পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেওয়া প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের খুঁজে বের করা। তিনি বলেন, এর মধ্যে প্রযুক্তিটি শুধু মানুষের কৌতূহলের বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি আমাদের কাজ ও জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে এবং মানুষের জ্ঞান অর্জনের প্রধান মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

জ্যাকবস আরও বলেন, এআই খাতের কার্যক্রম এখন দ্রুততার সঙ্গে বিকশিত হচ্ছে এবং একই সঙ্গে বিতর্কিতও হচ্ছে। এর যেমন ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি এ নিয়ে রয়েছে গভীর ভয়ও। ২০২৬ সালের এই তালিকাটি এই খাতের চলমান পরিবর্তনশীল অবস্থাকেই বিশেষভাবে তুলে ধরেছে, যেখানে উদ্ভাবন এবং উদ্বেগের সহাবস্থান বিদ্যমান। তিনি গত এক বছরের উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন, যেমন এক্সএআই-এর প্রধান ইলন মাস্কের তার এআই প্রতিষ্ঠানকে শেয়ার বাজারে নিয়ে যাওয়া এবং অ্যানথ্রোপিক-এর প্রধান দারিও আমোদেইয়ের যুদ্ধে এআই ব্যবহারের বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা।

এছাড়াও, ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন ডেটা সেন্টার তৈরিতে বড় বিনিয়োগ করছেন এবং চীনা স্টার্টআপ মুনশট এআই-এর ইয়াং ঝিলিন এমন প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা মাঝে মাঝে মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তবে, টাইমের প্রধান সম্পাদক এটিও বলেছেন যে, এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, শ্রমিক নেতা লিজ শুলার এবং অভিনেতা জোসেফ গর্ডন-লেভিট। এই ভিন্নমতগুলি এআইয়ের ভবিষ্যৎ পথচলাকে আরও জটিল করে তুলছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে ‘টাইম’ একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সান ফ্রান্সিসকোতে ‘টাইম ১০০ ইমপ্যাক্ট ডিনার’ নামের এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজনে এআই প্রযুক্তির প্রভাব এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর আলোচনা করা হবে, যেখানে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিত্বরা তাদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ