বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬ Login গল্প কবিতা কমিকস সাক্ষাৎকার খেলা ফিচার বিনোদন জীবনযাপন চিঠিপত্র আরও ফিচার লটকন টিয়া উল্টো ঝুলে ঘুমায় কেন মাহমুদ নেওয়াজ প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০১: ০০ লটকন টিয়াকে খুঁজে পেতে হলে ওপরে তাকানোর আগে কান পাততে হয়। শব্দটা আসে পাতার আড়াল থেকে, তীক্ষ্ণ শিসের মতো, তারপর হঠাৎ থেমে যায়। সিলেট বা চট্টগ্রামের টিলাবহুল বনে হাঁটতে গেলে এই থামা-চলা শব্দটাই প্রথম সংকেত।
বৈজ্ঞানিক নাম Loriculus vernalis । বাংলায় বাসন্তী লটকনটিয়া, কোথাও ঝুলন টিয়া বা সুখপাখি। দৈর্ঘ্য মেরেকেটে ১৪ সেন্টিমিটার আর ওজন ৩০ গ্রামের কাছাকাছি। একটা মাঝারি লেবুর ওজন। বাংলাদেশের ছয় প্রজাতি টিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ছোট এই লটকন টিয়া। রং গাঢ় সবুজ। বনের পাতার সঙ্গে প্রায় নিখুঁতভাবে মিশে যায়। পিঠের নিচের দিকে একটা লাল ছোপ থাকে, উড়ন্ত অবস্থা ছাড়া সহজে সেটা চোখে পড়ে না।
একা থাকা এদের ধাতে নেই বললেই চলে। ছোট দলে ঘোরে। সাধারণত ৫ থেকে ১২টার মতো পাখি একসঙ্গে থাকে। জোড় বাঁধার পর সেই সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি হয়। পালক পরিষ্কার করে দেওয়া থেকে খাবার খোঁজা পর্যন্ত জোড় বেঁধে করে এরা। সহজে সম্পর্ক ভাঙে না এদের। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফ্রান্সিন বাকলি ১৯৬৮ সালে এই প্রজাতির আচরণ নিয়ে যে গবেষণা করেছিলেন, সেখানে দলের ভেতরকার হুমকি দেওয়ার ভঙ্গির কথা লেখা আছে। খাবারের জায়গা বা বিশ্রামের ডাল নিয়ন্ত্রণ হয় এভাবেই। শারীরিক সংঘর্ষে এরা তেমন জড়ায় না। শুধু হুমকি দেয়।
উড়ালটা দেখার মতো। ঝাঁক থেকে হঠাৎ একটা পাখি ছুটে ওঠে ঘন সবুজের ভেতর দিয়ে সরু তীরের মতো গতিতে, বাকিরা প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পেছনে। ডানার ঝাপটা দ্রুত ও ছোট। দূর থেকে দেখলে মনে হয় একঝাঁক পোকা উড়ছে গাছের মাথার ওপর দিয়ে। ফাঁকা আকাশ এড়িয়ে চলে। গাছের ডালপালার নিচ দিয়েই বেশি ওড়ে। শিকারি পাখির চোখ ফাঁকি দেওয়ার একটা উপায় সম্ভবত। একই গাছে দিনের পর দিন ফিরে আসার প্রবণতাও লক্ষ করা যায়, বিশেষ করে ফুল-ফলে ভরা গাছে।
খায় ফুলের মধু, কচি পাতা, বুনো ফল। মাঝেমধ্যে ছোট পোকামাকড়ও, যদিও সেটা মূল অভ্যাস নয়। খাওয়ার ভঙ্গিটা অ্যাক্রোবেটিক। একপায়ে ডাল আঁকড়ে ধরে শরীর উল্টে ফেলে, মাথা নিচু করে ফুলের ভেতর ঠোঁট ঢুকিয়ে দেয়। এই উল্টো হয়ে ঝোলার অভ্যাসটাই এদের নামের মধ্যেও ঢুকে গেছে। হ্যাঙ্গিং প্যারট।
ঘুমের সময়েও একই উল্টো ভঙ্গি, আর এখানেই এরা আলাদা। পৃথি