মঙ্গলবার, 25 আগস্ট 2026
⚠ ব্রেকিং
জাতীয় 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

কেরানীগঞ্জ কারাগারে অসুস্থ হাজতির করুণ মৃত্যু, ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ

ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের হাজতি মোহাম্মদ কালাম শেখ (৪০) অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং মঙ্গলবার ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শেয়ার করুন:
কেরানীগঞ্জ কারাগারে অসুস্থ হাজতির করুণ মৃত্যু, ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ

আজ, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট, ২০২৬) ভোরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন হাজতি, মোহাম্মদ কালাম শেখ (৪০), ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিলো। এই ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ এবং হাসপাতাল প্রশাসন নিয়মানুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যা দেশের আইনি প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কারা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ কালাম শেখ সোমবার (২৪ আগস্ট) কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। সোমবার বিকেলের দিকেই তাকে দ্রুততার সাথে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার অবস্থার গুরুত্ব অনুধাবন করে তাকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কালাম শেখকে জরুরি বিভাগ থেকে ঢামেকের মেডিসিন বিভাগের ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছিলো। সেখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছিল এবং তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর দ্রুত কারা কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

নিহত মোহাম্মদ কালাম শেখের স্থায়ী ঠিকানা রাজবাড়ী জেলার বাজিতপুর এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত গেন্দু শেখ। কেন্দ্রীয় কারাগারে তার হাজতি নম্বর ছিলো ২৯৯/২৬। যদিও তিনি কোন নির্দিষ্ট মামলায় কারাবন্দি ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা কারারক্ষী বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো বিস্তারিত তথ্য ছিলো না। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া যেতে পারে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকাশ হতে পারে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক এই মর্মান্তিক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মোহাম্মদ কালাম শেখের মৃত্যুর প্রকৃত এবং সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে। এটি সকল কারাবন্দির মৃত্যুর ক্ষেত্রে অনুসরণ করা একটি বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়া।

পরিদর্শক ফারুক আরও জানান, কালাম শেখের মৃত্যুর বিষয়ে কেরানীগঞ্জ কারা কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবং আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোহাম্মদ কালাম শেখের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরিবারের কাছে এই দুঃসংবাদ পৌঁছানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যা পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি কঠিন সময়।

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের অসুস্থতা এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা মাঝে মাঝেই সংবাদ শিরোনাম হয়, যা বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার এবং কারা কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার করে। মোহাম্মদ কালাম শেখের মৃত্যুর ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ময়নাতদন্তের ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা করবে।

এই ধরনের ঘটনায় বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মান নিয়ে জনমনে প্রায়শই প্রশ্ন ওঠে। যদিও কারা কর্তৃপক্ষ সবসময়ই বন্দিদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি করে, তবুও অসুস্থতার কারণে মৃত্যুর ঘটনাগুলো এই ব্যবস্থার ত্রুটিগুলি তুলে ধরে এবং উন্নতির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। আশা করা যায়, মোহাম্মদ কালাম শেখের মৃত্যুর কারণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হবে এবং যদি কোনো গাফিলতি থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ