ভারতের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬’-এর মুকুট জিতে নিয়েছেন কেরলের ১৯ বছর বয়সী তরুণী কাজিয়া লিজ মেজো। গত ২৩শে আগস্ট, রবিবার জয়পুরে আয়োজিত এক জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালেতে ৫২ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন, যাদের সবাইকে পেছনে ফেলে বিজয়ীর মুকুট মাথায় তোলেন কাজিয়া। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ লাভ করেছেন, যা তার জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
এই জয়ের ফলস্বরূপ, কাজিয়া লিজ মেজো আগামী নভেম্বরে পুয়ের্তো রিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৭৫তম ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ এই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে নিজের দেশের পতাকা বহন করার সুযোগ পেয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত। জাতীয় পর্যায়ে এই বিশাল সাফল্য তাকে বিশ্ব মঞ্চে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত করেছে এবং তার আত্মবিশ্বাসকে বহুলাংশে বাড়িয়ে তুলেছে।
কেরলের মাভেলিকারার বাসিন্দা কাজিয়া বর্তমানে আইনের ছাত্রী হিসেবে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিংয়ের প্রতিও তার প্রবল আগ্রহ রয়েছে এবং এই অঙ্গনে তিনি বেশ সক্রিয়। ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া’ তার প্রথম বড় কোনো শিরোপা নয়; এর আগেও তিনি একাধিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি ‘মিস টিন ডিভা ২০২৪’ খেতাব জেতেন। এরপর ২০২৫ সালে ‘মিস টিন ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হন। চলতি বছর তিনি ‘মিস ইউনিভার্স কেরল’ নির্বাচিত হওয়ার পর ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে চূড়ান্ত বিজয় লাভ করেন।
কাজিয়া লিজ মেজোর এই বিজয় কেরল রাজ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনিই কেরলের প্রথম প্রতিযোগী যিনি ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া’ খেতাব জিতলেন। এর আগে কেরল থেকে কোনো প্রতিযোগী এই জাতীয় প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হতে পারেননি, যা কাজিয়ার অর্জনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। তার এই সাফল্য রাজ্যের তরুণীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মানচিত্রে কেরলের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে।
আইনের ছাত্রী হওয়ার পাশাপাশি কাজিয়া একজন প্রশিক্ষিত শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী। প্রায় ১২ বছর ধরে তিনি নাচের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং এই ক্ষেত্রে তার দক্ষতা অনস্বীকার্য। শুধু নাচ নয়, তিনি ড্রামস ও ভায়োলিনও নিপুণভাবে বাজাতে পারেন, যা তার বহুমুখী প্রতিভার পরিচায়ক। অভিনয়ের প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে এবং মালয়ালম সিনেমা ‘শাইলক’-এর মাধ্যমে তিনি অভিনয় জগতে পা রেখেছেন। তার এই সৃজনশীল দিকগুলো তাকে একজন পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করে।
২০০৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে জন্মগ্রহণ করেন কাজিয়া। তার শৈশবের একটি বড় অংশ সেখানেই কেটেছে এবং তিনি আবুধাবির একটি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। পরবর্তীতে তিনি কেরলে ফিরে আসেন এবং নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যান। তার এই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তার ব্যক্তিত্বে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে, যা তাকে প্রতিযোগিতার মঞ্চে আলাদা করে তুলেছিল।
এবারের প্রতিযোগিতায় অন্যান্য বিজয়ীদের মধ্যে তামিলনাড়ুর বৈষ্ণবী গণেশ প্রথম রানারআপ নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, গুজরাটের অনুশ্রী সাতাভেলকর দ্বিতীয় রানারআপের খেতাব জিতেছেন। একই আয়োজনে অনুশ্রী ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া’ খেতাবও অর্জন করেন, যা তার জন্য একটি দ্বৈত সাফল্য। এই প্রতিযোগিতায় ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিভাবান তরুণীরা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য লড়াই করেছেন।
জমকালো এই ফাইনাল অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া’ বিজয়ী মণিকা বিশ্বকর্মা নতুন বিজয়ী কাজিয়ার মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন। মুকুট জয়ের পর আবেগাপ্লুত কাজিয়া তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “অসম্ভব ভালো লাগছে। এটা আমার জীবনের একটি আইকনিক মুহূর্ত। গত তিন বছর ধরে আমি এই মুহূর্তটির জন্য কঠোর পরিশ্রম করছিলাম। শেষ পর্যন্ত এই মুকুটটি কেরলে নিয়ে যেতে পারছি, এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।” তার এই কথাগুলো তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবং পরিশ্রমের ফলকে তুলে ধরে।
জাতীয় মুকুট জয়ের পর এখন কাজিয়ার সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আগামী নভেম্বরে পুয়ের্তো রিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ৭৫তম ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে অংশ নেওয়া তার নতুন লক্ষ্য। জাতীয় মঞ্চে সাফল্যের পর এবার বিশ্বসেরার মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করাই কেরলের এই ১৯ বছর বয়সী সুন্দরীর প্রধান উদ্দেশ্য। তার এই যাত্রায় গোটা দেশ তার পাশে রয়েছে এবং তার সাফল্যের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছে।