বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কৃতি স্যানন সম্প্রতি একটি গয়নার ব্র্যান্ডের রাখিবন্ধন বিষয়ক বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এই বিজ্ঞাপনে তার পরিহিত পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বহু নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী কৃতির পোশাককে 'অন্তর্বাসের মতো' আখ্যা দিয়ে ঐতিহ্যবাহী রাখিবন্ধন উৎসবের পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে এর অসামঞ্জস্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যা বিনোদন জগতে সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপনটিতে কৃতিকে একটি ঘিয়ে রঙের ব্রালেট-ধাঁচের ব্লাউজের সঙ্গে ফিনফিনে জ্যাকেট এবং একটি স্কার্ট পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। এই পোশাক শৈলীটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একদল ব্যবহারকারী অভিনেত্রীর ফ্যাশন পছন্দ এবং ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে রাখিবন্ধনের মতো একটি পারিবারিক ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবের জন্য এমন 'আধুনিক' পোশাকের ব্যবহারকে অনুপযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের মতে, এই ধরনের পোশাক ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি অসম্মানজনক এবং উৎসবের মূল বার্তা থেকে বিচ্যুত।
রাখিবন্ধন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় উৎসব, যা ভাই ও বোনের পবিত্র বন্ধনকে উদযাপন করে। এই দিনে বোনেরা তাদের ভাইদের হাতে রাখি বেঁধে তাদের দীর্ঘায়ু ও সমৃদ্ধি কামনা করে, বিনিময়ে ভাইয়েরা তাদের বোনদের রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই উৎসব সাধারণত ঐতিহ্যবাহী পোশাকে, যেমন শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ বা পাঞ্জাবি পরিধান করে উদযাপন করা হয়। এমতাবস্থায়, বিজ্ঞাপনে কৃতির 'আধুনিক' এবং 'উন্মুক্ত' পোশাক অনেকের কাছেই অপ্রাসঙ্গিক এবং দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে সমালোচকরা কৃতির পোশাকের ধরন এবং এর 'যৌন আবেদন' নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এই পোশাক রাখিবন্ধনের মতো পবিত্র উৎসবের জন্য মোটেও উপযুক্ত নয় এবং এটি 'অন্তর্বাসের মতো' দেখতে। এই ধরনের মন্তব্য অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতা এবং শিল্পের সৃজনশীল অভিব্যক্তি নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে, কিছু সংখ্যক ব্যবহারকারী কৃতির পোশাককে তার ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে সমর্থন করেছেন এবং এটিকে 'ফ্যাশন স্টেটমেন্ট' হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে শিল্পের স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাটি কেবল কৃতির পোশাক নিয়ে বিতর্ক নয়, বরং সেলিব্রিটিদের বিজ্ঞাপন এবং ব্র্যান্ডিংয়ে তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তারকারা যখন কোনো পণ্য বা উৎসবের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেন, তখন তাদের পোশাক, আচরণ এবং সামগ্রিক চিত্র জনসাধারণের মধ্যে একটি বার্তা পৌঁছে দেয়। এক্ষেত্রে, ব্র্যান্ড এবং অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা এবং জনমতের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন অনেকে। এটি বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে যে, ঐতিহ্যবাহী উৎসব বা সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞাপনের সময় আরও সতর্ক থাকতে হবে।
অতীতেও অনেক বলিউড তারকা বিভিন্ন বিজ্ঞাপন বা চলচ্চিত্রে তাদের পোশাক বা দৃশ্যের জন্য সমালোচিত হয়েছেন। এই ধরনের বিতর্ক সাধারণত তারকাদের জনপ্রিয়তা এবং তাদের সামাজিক প্রভাবের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কৃতি স্যাননের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। এই বিতর্ক একদিকে যেমন ব্র্যান্ডের জন্য প্রচার এনেছে, তেমনই অন্যদিকে অভিনেত্রীর ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই ধরনের ঘটনা প্রায়শই সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার মধ্যে বিদ্যমান টানাপোড়েনকে তুলে ধরে।
এখন পর্যন্ত কৃতি স্যানন অথবা সংশ্লিষ্ট গয়নার ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে এই বিতর্ক নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে, এই ঘটনা বিনোদন জগৎ এবং বিজ্ঞাপন শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যেখানে সৃজনশীলতা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের সঙ্গে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও জনমতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।