শুক্রবার, 10 জুলাই 2026
⚠ ব্রেকিং
জাতীয় 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি: নৌকাডুবিতে কিশোরী নিখোঁজ, ৬০০ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হয়েছে ১২ বছর বয়সী ঝর্না। একইসাথে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই হয়েছে প্রায় ৬০০ পানিবন্দি মানুষের।

শেয়ার করুন:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি: নৌকাডুবিতে কিশোরী নিখোঁজ, ৬০০ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে নৌকাডুবিতে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। শুক্রবার সকালে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় যখন চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানির নিচে, তখন আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ কিশোরীর নাম ঝর্না, যার বয়স আনুমানিক ১২ বছর। একইসাথে, উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যায় পানিবন্দি প্রায় লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে ৬০০ জন ইতোমধ্যে ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ঝর্না স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেকের মেয়ে। আব্দুল মালেক তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নৌকাযোগে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে যাচ্ছিলেন, কারণ তাদের নিজেদের ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছিল। রসুলাবাদ এলাকায় পৌঁছালে প্রবল স্রোতের মুখে তাদের নৌকাটি উল্টে যায়। নৌকায় থাকা পরিবারের অন্য সদস্যরা সাঁতরে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, স্রোতের টানে তলিয়ে যায় কিশোরী ঝর্না।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার এই ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নৌকাডুবির খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরবর্তীতে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। তবে, চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসে কোনো নিজস্ব ডুবুরি দল না থাকায় উদ্ধার কার্যক্রমে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। পানির গভীরতা ও প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ডুবুরি দল তলব করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আশা করছেন, ডুবুরি দল পৌঁছানোর পর উদ্ধার অভিযান আরও গতি পাবে। চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক দিদারুল হক এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। তবে, পানির গভীরতা ও স্রোত বেশি থাকায় ডুবুরি দলের সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন। এজন্য চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ডুবুরি দল চাওয়া হয়েছে এবং আমাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রুবেল জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চকরিয়া ও পেকুয়ার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। বহু এলাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় হাজার হাজার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিনিয়ত নৌকাডুবির মতো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। অনেকেই তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।

ইউএনও শাহীন দেলোয়ার আরও জানান, চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তাদের জন্য উপজেলা প্রশাসন ৯৬টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এখন পর্যন্ত ৬০০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয় নেওয়া এই সকল বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাদের সার্বিক দেখভালের জন্য স্থানীয় প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সরকার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এবং নিখোঁজ কিশোরীকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। এই মুহূর্তে সকলের প্রার্থনা নিখোঁজ ঝর্নার দ্রুত সন্ধান এবং বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ