শুক্রবার, 10 জুলাই 2026
⚠ ব্রেকিং
জাতীয় 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

দৌড়ানোর সময় হাত বাঁকে, হাঁটার সময় তত বাঁকে না কেন

নিজের দেহ নিয়ে আমাদের অনেক ভুল ধারণা থাকে। এমনই একটি হলো, আমরা যখন হাঁটি বা দৌড়াই, তখন মনে হয় সব কাজ বুঝি শুধুই পায়ের। কিন্তু একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমাদের হাতও সমানভাবে অংশ নেয়।

শেয়ার করুন:
দৌড়ানোর সময় হাত বাঁকে, হাঁটার সময় তত বাঁকে না কেন

নিজের দেহ নিয়ে আমাদের অনেক ভুল ধারণা থাকে। এমনই একটি হলো, আমরা যখন হাঁটি বা দৌড়াই, তখন মনে হয় সব কাজ বুঝি শুধুই পায়ের। কিন্তু একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমাদের হাতও সমানভাবে অংশ নেয়।

মজার ব্যাপার হলো, আমাদের হাঁটার গতি কেমন তার ওপর নির্ভর করে হাত দুটি কেমন করে নড়বে। সাধারণ গতিতে হাঁটার সময় হাত সাধারণত শরীরের দুপাশে স্বাভাবিকভাবে দুলতে থাকে। কিন্তু গতি বাড়িয়ে যখনই আমরা দৌড়াতে শুরু করি, তখনই হাত দুটি আপনা–আপনি কনুইয়ের কাছে ভেঙে বা বেঁকে যায়।

গবেষকেরা ২০১৯ সালে মানুষের এই হাত নাড়ানোর পেছনের কারণ নিয়ে ‘জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজি’ জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, হাত কীভাবে রাখলে শরীরের শক্তি সবচেয়ে বেশি বাঁচে।

গবেষণায় দেখা গেছে, হাত সোজা রেখে হাঁটার চেয়ে কনুই বাঁকা করে হাঁটলে শরীরের শক্তি আসলে বেশি খরচ হয়। অর্থাৎ হাত সোজা রেখে হাঁটাটাই শরীরের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক ও শক্তি–সাশ্রয়ী।

বিজ্ঞানীরা খেয়াল করলেন, যখন মানুষ কনুই বাঁকা করে হাঁটে, তখন তাদের শরীরের শক্তি খরচ প্রায় ১১ শতাংশ বেড়ে যায়। এর সহজ কারণ হলো, হাঁটার মতো ধীরগতির সময়ে জোর করে হাত বাঁকিয়ে ধরে রাখতে পেশিকে বাড়তি খাটতে হয়।

এই পরীক্ষা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, কেন আমরা হাঁটার সময় বাড়তি শক্তি অপচয় না করে হাত দুটিকে স্বাভাবিকভাবে সোজা রেখে দিই। তবে দৌড়ানোর সময় মানুষ ঠিক কেন আপনা–আপনি হাত বাঁকিয়ে ফেলে, সেই কারণটা বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি জানতে পারেননি।

অবশ্য ২০১৪ সালের অন্য একটি গবেষণা এ বিষয়ে একটি ধারণা দিয়েছিল। ‘জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজি’তে প্রকাশিত সেই গবেষণায় দেখা যায়, দৌড়ানোর সময় হাত দোলাতে কিছুটা শক্তি খরচ হলেও, হাত দুটোকে জোর করে এক জায়গায় স্থির বা শক্ত করে রাখতে তার চেয়েও অনেক বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়।

কারণ, হাত যখন স্বাভাবিকভাবে দোলে, তখন তা দৌড়ানোর ঝাঁকুনিতে শরীরের ওপরের অংশের অনাকাঙ্ক্ষিত নড়াচড়া কমিয়ে দিয়ে পুরো দেহের ভারসাম্য ধরে রাখে।

এই পরীক্ষায় দেখা যায়, দৌড়ানোর সময় যখন অংশগ্রহণকারীদের হাত সোজা রাখতে বলা হয়েছিল, তখন তাঁরা জানান এভাবে দৌড়ানো তাঁদের জন্য বেশ অস্বস্তিকর ও কষ্টকর ছিল। তবে যন্ত্রের হিসাবে দেখা গেল, হাত বাঁকা রাখা বা সোজা রাখা, যেভাবেই দৌড়ানো হোক না কেন, শরীরের শক্তি খরচের পরিমাণের মধ্যে তেমন কোনো বড় পার্থক্য নেই।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ