শুক্রবার, 10 জুলাই 2026
⚠ ব্রেকিং
ক্রিকেট 🇧🇩 বাংলা

সাদা বলের দলে সোহানের ফেরা, টেস্টে এবাদতের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়!

একমাত্র টেস্টে শোচনীয় হারের পর আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। মিডল অর্ডারে নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও ইয়াসির আলী রাব্বির মতো অভিজ্ঞদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে পেসার এবাদত হোসেনের টেস্ট দলে ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শেয়ার করুন:
সাদা বলের দলে সোহানের ফেরা, টেস্টে এবাদতের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়!

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানের বিশাল পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠার আগেই বাংলাদেশ দল এখন টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। এই সাদা বলের সিরিজের জন্য জাতীয় দলের স্কোয়াডে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে নির্বাচক কমিটি ও টিম ম্যানেজমেন্ট। মূলত মিডল অর্ডারকে শক্তিশালী করার দিকেই এবার বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে, যেখানে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ওপরই আস্থা রাখা হয়েছে।

টি-টোয়েন্টি দলে মিডল অর্ডারকে আরও মজবুত করতে শামীম পাটোয়ারীকে বাদ দিয়ে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এবং ইয়াসির আলী রাব্বিকে ফেরানো হয়েছে। একইসঙ্গে উইকেটকিপার-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানকেও দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যিনি মিডল অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। এই তিন অভিজ্ঞ পারফর্মারের অন্তর্ভুক্তি নির্বাচকদের দৃঢ় বার্তা দেয় যে, তারা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে একটি সুসংহত ও শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপ তৈরি করতে চাইছেন। এছাড়াও, পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের পাশাপাশি সাইফউদ্দীনকেও দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা দলের ভারসাম্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মিডল অর্ডারে এতগুলো প্রতিষ্ঠিত ও অভিজ্ঞ পারফর্মারকে দলে নেওয়ার পেছনে নির্বাচকদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। টপ অর্ডারে নতুন মুখ না এনে পুরোনোদের ওপর আস্থা রাখার কারণ নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে কিছু প্রশ্ন উঠলেও, প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, টপ অর্ডারে আপাতত কোনো রদবদল করা হয়নি এবং তানজিদ তামিম, সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমনের ওপরই আস্থা রাখা হয়েছে।

তরুণ মারকুটে ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহানকে নিয়ে প্রধান নির্বাচক বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। হাবিবুল বাশার সুমনের মতে, হাবিবুর রহমান সোহান তাদের বিশেষ বিবেচনায় রয়েছেন এবং তাকে ভবিষ্যতের ওপেনার হিসেবে ভাবা হচ্ছে। তবে মূল দলে অন্তর্ভুক্ত করার আগে তাকে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিট এবং ‘এ’ দলে রেখে আরও পরিপক্ক হওয়ার সুযোগ দিতে চান নির্বাচকরা। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সোহানকে জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত করা হবে।

হাবিবুর রহমান সোহান আগামীতে এইচপি দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন এবং সেখানে তার পারফরম্যান্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। খুব দ্রুতই তাকে হয়তো মূল দলে দেখা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। অন্যদিকে, মিডল অর্ডারে নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করার কারণ ব্যাখ্যা করে হাবিবুল বাশার বলেন, শামীম পাটোয়ারীর অনুপস্থিতিতে দলের প্রয়োজনে পরিণত ও প্রতিষ্ঠিত পারফর্মারদেরই রাখা হয়েছে, যারা চাপ সামলে ভালো খেলতে সক্ষম।

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি পেস বোলিং বিভাগ নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন এবং হাসান মাহমুদ বাংলাদেশের দ্বিতীয় সারির বোলার নন, বরং তারা ফ্রন্টলাইন পেসার। তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল, কিন্তু তারা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তাসকিন আহমেদ এবং নাহিদ রানার বাইরে এই তিনজনই টেস্টের মূল পেসার এবং অতীতে তারা বেশ কিছু টেস্ট খেলেছেন। বিশেষ করে, কাউন্টি ক্রিকেটে দুর্দান্ত বোলিং করার পর হাসান মাহমুদের হারারে টেস্টে নির্বিষ বোলিং নির্বাচকদের হতাশ করেছে।

এবাদত হোসেনের ব্যাপারে হাবিবুল বাশারের আক্ষেপ ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এবাদত টেস্ট দলের একজন নিয়মিত বোলার ছিলেন। নির্বাচকরা চেয়েছিলেন ইনজুরি থেকে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও নিজের সেরা ফর্মে ফিরুন, তাই তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবাদত যেন নিজেকে ফিরে পেতে বেশ সংগ্রাম করছেন এবং তার পারফরম্যান্সে সেই প্রত্যাশিত ধার দেখা যাচ্ছে না, যা দলের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রধান নির্বাচক সরাসরি আর কিছু না বললেও, তার হাবভাবে যা বোঝা গেছে, তাতে করে আগামীতে এনসিএল (জাতীয় ক্রিকেট লিগ) এবং বিসিএল (বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ)-এ নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখাতে না পারলে এবাদত হোসেনের টেস্ট দলে টিকে থাকার সম্ভাবনা খুব কম। নির্বাচকরা এখন ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্সের ওপরই মূলত নির্ভর করবেন তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ