বৃহস্পতিবার, 9 জুলাই 2026
⚠ ব্রেকিং
তারকা জীবন 🇧🇩 বাংলা

পারসা ইভানার 'ফ্রড অ্যালার্ট': পরিচালক ফারহাদ আহমেদ ইশানের বিরুদ্ধে পারিশ্রমিক বকেয়ার অভিযোগ

জনপ্রিয় অভিনেত্রী পারসা ইভানা নাট্যপরিচালক ফারহাদ আহমেদ ইশানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। পারিশ্রমিক পরিশোধে অনিয়ম ও অপেশাদার আচরণের বিস্তারিত তথ্য তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরেছেন, যেখানে কথোপকথনের স্ক্রিনশটও প্রকাশ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:
পারসা ইভানার 'ফ্রড অ্যালার্ট': পরিচালক ফারহাদ আহমেদ ইশানের বিরুদ্ধে পারিশ্রমিক বকেয়ার অভিযোগ

জনপ্রিয় নাট্য অভিনেত্রী পারসা ইভানা, যিনি 'ব্যাচেলর পয়েন্ট' খ্যাত হয়ে দর্শক মহলে পরিচিতি লাভ করেছেন, সম্প্রতি এক নাট্যপরিচালকের বিরুদ্ধে পারিশ্রমিক পরিশোধে অনিয়ম এবং অপেশাদার আচরণের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। রবিবার (২৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে 'ফ্রড অ্যালার্ট' শিরোনামে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন তিনি। তার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পরিচালক ফারহাদ আহমেদ ইশান, যার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে হওয়া কথোপকথনের একাধিক স্ক্রিনশটও তিনি প্রমাণ হিসেবে শেয়ার করেছেন, যা বিনোদন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পারসা ইভানা তার পোস্টে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ফারহাদ আহমেদ ইশানের যোগাযোগ, পেশাদারিত্ব এবং পারিশ্রমিক প্রদানের ক্ষেত্রে 'গুরুতর সমস্যার' সম্মুখীন হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, গত সাত মাস ধরে তিনি তার প্রাপ্য পারিশ্রমিকের জন্য অপেক্ষা করছেন। শুধু পারসা ইভানা একাই নন, তার টিমের আরও অনেক সদস্যও নাকি এখনো তাদের পাওনা বুঝে পাননি। অভিনেত্রী স্বীকার করেছেন যে, পরিচালক তাকে কিছু টাকা পরিশোধ করেছেন, কিন্তু একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো বকেয়া রয়েছে। তবে তার মূল উদ্বেগ হলো, টিমের অন্যান্য সদস্যরা এখনো অর্থ পাননি, যা একজন শিল্পী হিসেবে তার নিজেরও দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন।

অভিনেত্রী তার পোস্টে বিশেষভাবে প্রোডাকশন টিমের সদস্যদের পারিশ্রমিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, তার নিজের টাকা না পেলেও হয়তো তিনি মেনে নিতে পারতেন, কিন্তু যারা দিন এনে দিন খায়, সেই প্রোডাকশন বয়দের কথা তিনি কীভাবে উপেক্ষা করবেন? যে তরুণরা একটি ভালো সুযোগের আশায় কঠোর পরিশ্রম করে নতুন করে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করেছে, তাদের প্রাপ্যটুকু কি তারা পাবে না? পারসা ইভানা আরও প্রশ্ন তোলেন যে, কেন এত মানুষের পাওনা নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পারসা ইভানা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি চান এই শিল্পের সাথে জড়িত সবাই যেন এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন এবং সচেতন থাকেন। কোনো নতুন কাজ শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট পরিচালক বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যথাযথ খোঁজখবর নেওয়া, সকল চুক্তি ও আর্থিক বিষয় লিখিতভাবে নিশ্চিত করা এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তার এই আহ্বান ইন্ডাস্ট্রির স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্বের প্রতি তার অঙ্গীকার প্রকাশ করে।

একটি পরিচ্ছন্ন ও দায়িত্বশীল ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যাশা ব্যক্ত করে পারসা ইভানা তার পোস্টে আরও বলেন, আমরা নিশ্চয়ই এমন একটি শিল্প জগৎ চাই, যেখানে সততা, দায়িত্ববোধ এবং পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অসততা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কোনো স্থান সেখানে থাকা উচিত নয়। তার এই বক্তব্য কেবল ব্যক্তিগত অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, সামগ্রিক ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন ও নৈতিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার প্রতি তার গভীর আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়।

পরিচালক ফারহাদ আহমেদ ইশানের সঙ্গে পারসা ইভানার হোয়াটসঅ্যাপে হওয়া কথোপকথনের বেশ কিছু স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। এসব স্ক্রিনশটে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরেও পারসা ইভানা তার বকেয়া পারিশ্রমিকের জন্য পরিচালকের কাছে অনুরোধ করেছিলেন। জানুয়ারী মাসেও তিনি যখন টাকা চান, তখন পরিচালক ফারহাদ আহমেদ ইশান তাকে আর্থিক সংকটের কথা জানান এবং দ্রুত পারিশ্রমিক পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে মে মাসেও যখন পারিশ্রমিক পরিশোধ হয়নি এবং পারসা ইভানা আবারও টাকা চান, তখন পরিচালক তার মা-বাবার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে সময় চেয়ে নেন। এক পর্যায়ে গিল্ডে অভিযোগ করার প্রসঙ্গ উঠলে পরিচালক ফারহাদ আহমেদ ইশান এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে পারসা ইভানা সর্বশেষ জানিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতিও রক্ষা হয়নি এবং তিনি এখনো তার প্রাপ্য টাকা পাননি, যা এই দীর্ঘসূত্রিতা ও অপেশাদারিত্বের চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

এই ঘটনা বিনোদন অঙ্গনে পারিশ্রমিক পরিশোধে অনিয়ম এবং শিল্পীদের অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। পারসা ইভানার মতো একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর এমন অভিযোগ নিঃসন্দেহে ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সময় আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে। এমন পরিস্থিতি যেন আর কোনো শিল্পী বা কলাকুশলীর ক্ষেত্রে না ঘটে, তার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ